ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য এক সপ্তাহ আগে দল ঘোষণা করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। সাদা পোশাকের বনেদি সংস্করণের জন্য দল নির্বাচন করতে খুব বেশি ভাবতে হয় না নির্বাচকদের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট হারলেও আগের চার ম্যাচের সবগুলো জিতেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে এবার দল চূড়ান্ত করতে গিয়ে বেশ গলদঘর্ম অবস্থা হাবিবুল বাসারের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের প্যানেলের।
মূল দলের ৩ ক্রিকেটারের চোট এতটাই উদ্বেগ বাড়িয়েছে যে, দেরিতে দল দিলেও সেটা মাত্র এক ম্যাচের জন্য। যদি দ্বিতীয় ম্যাচের আগে চোট কাটিয়ে ফিরতে পারেন লিটন দাস ও শরিফুল ইসলাম এমন আশায়। ডানহাতি পেসার নাহিদ রানা একেবারে ছিটকে গেছেন। বাধ্য হয়ে ছুটি কমিয়ে যেমন ইবাদত হোসেনকে ফিরতে বলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, তেমনি ৫ বছর টেস্ট না খেলা সৌম্যকেও দলে ডেকেছে। জোড়াতালি দেওয়া দল হলেও আস্থা হারাচ্ছেন না হাবিবুল। এই দল নিয়েই পূর্ণশক্তির অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো ফলের আশা তার।
গতকাল মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘চোটের কারণে যে অবস্থা হয়েছে, এটা খুবই চ্যালেঞ্জিং। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ইনজুরি হলে তো কিছু করার নেই। বেশি চিন্তা এখন আর করতে চাই না। যেহেতু দল দিয়ে দিয়েছি। যারা ছিল, ওদের নিয়ে সম্ভাব্য সেরা দলই গড়েছি। আমি আশাবাদী, এই দল নিয়েই অস্ট্রেলিয়ায় ভালো করব।’ নিজের এমন দাবির পেছনে যুক্তিও দিয়েছেন হাবিবুল, ‘আমি কাউকে ছোট করছি না। তবে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সেঞ্চুরি করা আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করার মধ্যে অনেক তফাৎ আছে। ক্যারিয়ার উজ্জ্বল হয়। অস্ট্রেলিয়ায় সেঞ্চুরি করলে বা ৫ উইকেট পেলে সেটা বিশেষ অর্জন। সবার মনের মধ্যে থাকে, আমি যেন ক্যারিয়ার শেষে কিছু মনে রাখতে পারি। এটা সেই সিরিজ।’
অস্ট্রেলিয়া এই সিরিজ নিয়ে রোমাঞ্চ লুকায়নি। বিশেষ করে দুই দলের পেসারদের লড়াই জমার প্রত্যাশা করেন অজি ক্রিকেটার-কোচরা। তবে গতি দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করার সবচেয়ে বড় অস্ত্রকে রেখেই আগামী ১ ও ৩ আগস্ট দুই ধাপে দেশ ছাড়বেন সফরকারীরা। ক্যারিয়ারের শুরুতেই গতিতারকার তকমা পাওয়া নাহিদের না থাকা বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন হাবিবুল, ‘নাহিদ বিশেষ একজন বোলার। বিশ্ব ক্রিকেটেও তার মতো গতির বোলার খুব বেশি নেই। তাকে না পাওয়া অবশ্যই বড় ধাক্কা।’ কিন্তু এটা ভেবে বসে থাকার সময় নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি, ‘তবে কোনো দলই সবসময় সেরা খেলোয়াড়দের পায় না। সর্বশেষ অ্যাশেজেও অস্ট্রেলিয়া প্যাট কামিন্সকে ছাড়াই খেলেছে। আমাদেরও সামনে তাকাতে হবে।’
এদিকে লিটন না থাকায় তাওহীদ হৃদয়কে আরেকটা সুযোগ দেওয়া যেত কি না, সে প্রশ্নও ওঠে। কিন্তু উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হিসেবে অমিত হাসানের একাদশে থাকা প্রায় নিশ্চিত। সে ক্ষেত্রে হৃদয়ের জায়গা হতো সাইডবেঞ্চে। এজন্যই এই দলে রাখেননি বলে দাবি হাবিবুলের, ‘মিরাজ (মেহেদী হাসান) চলে এসেছে। হৃদয়ের একাদশে এখন সুযোগ কম। অস্ট্রেলিয়ায় বসে থাকার চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের হয়ে সিরিজ খেলুক। এই চিন্তা করেই ওকে বাদ দেওয়া।’
বাড়তি একজন উইকেটরক্ষকের প্রয়োজন মেটাতে ১ বছর পর টেস্টে ফিরেছেন জাকের আলী। একই ক্যাটাগরিতে থাকা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে বাদ দিয়ে জাকেরকে নেওয়ার ব্যাখ্যায় প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘আগেও অঙ্কনকে আমরা বিকল্প হিসেবে নিয়েছি। তবে জাকের সবসময় আগে আসে। দুর্ভাগ্যবশত অঙ্কন নেই। সামনে যে দলগুলো আছে, সেখানে সুযোগ পাবে। সবাইকে প্রস্তুত রাখছি। সামনে অনেক খেলা আছে।’
এদিকে ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে বের হতে পারছেন না ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। তাকে এবার অস্ট্রেলিয়ায় নিচ্ছে না বিসিবি। তার পরিবর্তে পাঁচ বছরের বেশি সময় পর টেস্টে ডাক পেয়েছেন সৌম্য। মূলত অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতার জন্যই দরজা খুলেছে এই বাঁহাতি ব্যাটারের। বাশার বলেন, ‘সৌম্য অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। অস্ট্রেলিয়ার পেস খেলে অভ্যস্ত। অন্য ওপেনার চিন্তা করেছিলাম, তবে যে কয়জন ওিেপনার নিয়ে কাজ করছি, তাদের মধ্যে ডানহাতি তেমন ভালো কেউ নেই। যাদের নিয়ে কাজ করছি, তারা নতুন। অস্ট্রেলিয়া সফর তাদের জন্য কঠিন হবে।’