রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকের দিনই রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন সিনেটে ভোট হতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন। একই দিনে তিনি মার্কিন সিনেট সদস্যদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবটি কয়েক মাস ধরে সিনেটে আটকে ছিল। এই উদ্যোগের অন্যতম সমর্থক ছিলেন প্রয়াত সিনেটর গ্রাহাম। প্রস্তাবটি পাস হলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় পাঁচ আমদানিকারক দেশের পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এর মধ্যে চীন ও ভারতও রয়েছে।
শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রস্তাবে ইরানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করার উদ্যোগ নেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লরা লুমারের সঙ্গে এক আলাপে গত সপ্তাহে জেলেনস্কি এই পদক্ষেপকে “ভালো ধারণা” বলে মন্তব্য করেন।
ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের যোগসূত্র
ভৌগোলিকভাবে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরে চলমান ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে।
শনিবার ইউক্রেন কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি ট্যাংকারে হামলা চালায়। ইসরায়েলে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ইয়েভগেন করনিয়চুক দাবি করেন, ওই জাহাজে ইরান থেকে রাশিয়ার জন্য ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম বহন করা হচ্ছিল। এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম কোর্টনির মতে, ইরানি জাহাজে হামলার মাধ্যমে ইউক্রেন একদিকে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে ইরানকে যুক্ত করার বিষয়টি সমর্থন করলেও ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী যুদ্ধের সঙ্গে খুব বেশি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে চাইবে না।
রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউক্রেনকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা না দিলেও দূরপাল্লার হামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। পাশাপাশি ইউরোপের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে, যার একটি অংশ পরে ইউক্রেনে পৌঁছাচ্ছে।
ট্রাম্প-জেলেনস্কি সম্পর্কের পরিবর্তন
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার পর ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই নেতার সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে দুই দেশ যৌথভাবে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়। রাশিয়ার বিমান হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন যৌথভাবে ড্রোন উৎপাদনের চুক্তির দিকেও এগোচ্ছে। সামরিক প্রযুক্তির এই ক্ষেত্রে ইউক্রেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। চলতি বছরে ইউক্রেন ৬০ থেকে ৭০ লাখ স্বল্প-পাল্লার আক্রমণাত্মক ড্রোন উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করছে।
চলছে তীব্র লড়াই
কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই চলছে দূরপাল্লার হামলা।
সোমবার পূর্ব ইউক্রেনে রুশ হামলায় সাতজন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় একটি বাণিজ্যিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়; এতে একজন নিহত ও দুজন আহত হন।
বর্তমানে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের কনস্টানতিনিভকা ও পোকরভস্ক এলাকায় সবচেয়ে তীব্র লড়াই চলছে।