ক্লাব কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অনুশীলন ছেড়ে যাওয়া এবং সতীর্থদের সঙ্গে অসদাচরণের গুঞ্জনে তৈরি হওয়া বিতর্কের মাঝেই সান্তোসের অনুশীলনে ফিরেছেন নেইমার জুনিয়র। আগামী মঙ্গলবার কোপা সুদামেরিকানার ম্যাচে ভেনেজুয়েলার ক্লাব 'ইউনিভার্সিদান সেন্ত্রাল'-এর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সান্তোস। এই ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে।
গত রবিবার সান্তোসের রেই পেলে ট্রেনিং সেন্টারে মাত্র ১০ মিনিট অবস্থান করার পর অনুমতি ছাড়াই চলে যান দলের অধিনায়ক নেইমার। তবে সোমবার আবারও অনুশীলনে যোগ দেন তিনি। এ দিন মাঠের অনুশীলনে তিনি পুরোদমে অংশ নেন। অনুশীলনে উপস্থিত ছিলেন নেইমারের বাবাও, যিনি মাঠের এক পাশে সান্তোসের সভাপতি মার্সেলো তেইশেইরা এবং ক্লাব পরিচালনা পর্ষদের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন।
গত শনিবার ব্রাজিলিয়ান লিগে শাপেকোয়েন্সের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করে সান্তোস। ম্যাচ চলাকালীন হাফ-টাইমে ড্রেসিংরুমে দলের তরুণ মিডফিল্ডার গাব্রিয়েল বোনতেম্পো এবং ডিফেন্ডার জোয়াও আনানিয়াসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ ও কটূক্তি করার অভিযোগ ওঠে নেইমারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ক্লাবের কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্ট তার আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করে। তবে নেইমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং সান্তোস কর্তৃপক্ষও অধিনায়কের বিরুদ্ধে আপাতত কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জিই গ্লোবো-এর প্রতিবেদন বলা হয়েছে, সান্তোস এবং নেইমারের মধ্যে টানাপোড়েন এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয়। মাঠ এবং মাঠের বাইরে একাধিক বিতর্ক তৈরি হওয়ায় এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের সঙ্গে ক্লাব কর্তৃপক্ষের দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে।
সান্তোস টিম ম্যানেজমেন্ট এবং বোর্ডের শীর্ষ কর্তারা নেইমারের সাম্প্রতিক আচরণে চরম অসন্তুষ্ট। দল যখন কোপা সুদামেরিকানার ম্যাচ খেলতে ভেনিজুয়েলায় অবস্থান করছিল, তখন নেইমার সাউ পাওলোতে একটি পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নেন, যা ক্লাবের অনেক খেলোয়াড় ও কর্তাকে ক্ষুব্ধ করে।
গত মে মাসে অনুশীলনে রবিনহো জুনিয়রের সঙ্গে হাতাহাতি এবং সম্প্রতি শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর ড্রেসিংরুমে তরুণ খেলোয়াড় গাব্রিয়েল বোনতেম্পো ও জোয়াও আনানিয়াসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। এ ছাড়া অনুশীলনের মাঝপথে কাউকে না জানিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ক্লাবের ভেতরে আলোচনা রয়েছে, ৩৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড পেশাদার ফুটবলের প্রতিদিনের রুটিন নিয়ে ক্লান্ত এবং খেলা ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতায় আছেন। তবে বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তির বাধ্যবাধকতার কারণে তাঁর বাবা তাকে খেলা চালিয়ে যেতে চাপ দিচ্ছেন।
অন্যদিকে নেইমার ও তাঁর প্রতিনিধিরা সান্তোস বোর্ডের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ট্রেনিং সেন্টারে ফুটবল-বহির্ভূত পরিচালকদের অবাধ যাতায়াত এবং ড্যানিয়েল আলভেসের মতো বিতর্কিত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন নেইমার। খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও প্রাইভেসির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
টানা দ্বিতীয় মৌসুমের মতো সান্তোস রেলিগেশন (অবনমন) এড়ানোর লড়াই করায় দলের সার্বিক মান নিয়ে অসন্তুষ্ট নেইমার। নিজের উদ্যোগে ট্রেনিং সেন্টার ও ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামের কিছু সংস্কার কাজ করলেও ক্লাব কর্তৃপক্ষের অবকাঠামোগত সহায়তায় তিনি হতাশ।
সান্তোসের কাছে নেইমারের পাওনা প্রায় ৯০ মিলিয়ন রিয়েল (ব্রাজিলিয়ান মুদ্রা)। চলতি বছর প্রায় তিন মাস ধরে দলটির খেলোয়াড়দের ছবির স্বত্বজনিত অর্থ বকেয়া ছিল, যা নিয়ে স্কোয়াডের মধ্যেও ক্ষোভ জমছে।
২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত সান্তোসের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে নেইমারের। তবে ক্লাব ও খেলোয়াড়ের বর্তমান অবস্থান বিবেচনা করলে চুক্তি নবায়নের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। একের পর এক বিতর্ক এবং আর্থিক ও প্রশাসনিক অমিলের কারণে সান্তোসে নেইমারের দ্বিতীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়তো সময়ের ব্যাপার মাত্র।