উল্টো কটাক্ষ ও বিদ্রুপের মুখে মডেল স্নিগ্ধা চৌধুরী

বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেলিং করার কথা বলে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে মামলা করে আলোচনায় আসা মডেল-অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী উল্টো তোপের মুখে পড়েছেন। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মডেলের বিভিন্ন কথাবার্তাও হাসির খোরাক হয়ে উঠেছে। ভাইরাল হওয়া স্নিগ্ধার কয়েকটি বক্তব্য নিয়ে রীতিমতো কটাক্ষ ও বিদ্রুপ করছেন নেটিজেন ও ফেসবুক ইউজাররা। এমনকি তার সহকর্মী তথা অনেক মডেল-অভিনেতা, অভিনেত্রীরাও ট্রল করা শুরু করেছেন। কেউ কেউ আবার স্নিগ্ধাকে নিয়ে বিভিন্ন পোস্টও দিচ্ছেন নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে।

এছাড়া ওই মডেলের বেশ কিছু মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিকরাও। এসব প্রশ্নে বলা হয়েছে (এক) স্নিগ্ধার এত দামি গাড়ি থাকতেও এত দূরের পথে মাকে আর ইমন নামের এক দালালকে নিয়ে উবারে  চড়ে কেন দেখা করতে গেলেন। পরে বাসায় মেহমান আসায় আবার বাসা থেকে গাড়ি এনে মাকে বাসায় পাঠিয়ে দিলেন। তিনি দালালের সঙ্গেই কেন থেকে গেলেন?

(দুই) ওখানে এত দীর্ঘ সময়ের কি মিটিং ছিল যে, মাকে পাঠিয়ে দেয়ার পরেও মিটিং শেষ হয়না। তাকে দালালের সঙ্গেই থাকতে হয়? তিন’শ ফিটে অফিস শুনে যেখানে নায়িকা যেতেই চাননি, সেখানে মাকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে মনে ভয় কাজ করলে তো চলেই আসতেন। শোনা যাচ্ছে, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার ওই অফিসে বেশ যাতায়াত ছিল স্নিগ্ধার। ঘটনার আগেরদিনও নাকি সেখানে গিয়েছিলেন। সেদিন কেন গিয়েছিলেন?  

(তিন) আশিয়ান সিটির চেয়ারম্যান যে মেয়েকে কোটি কোটি টাকা দিয়েছেন, এতদিনের সম্পর্ক অথচ সেই মেয়েকে মনে করে এই নায়িকাকে মারধর করলেন। কোটি টাকা দেয়া মেয়েকে নজরুল সাহেব চিনতেই পারলেন না! (৪) ছয় বছর ধরে নায়িকা বনানীতেই থাকেন। তার এত দামী গাড়ি যে মিরপুর এলাকায়ই ঢুকবে না। এত বড় ধনাঢ্য পরিবারের মেয়ে অথচ সংবাদ সম্মেলনে তার বাবা মাকে কেন নিয়ে এলেন ন? তার মা বাবার পরিচয় ও তাদের আয়ের উৎস কি?

(চার) যিনি এত টাকাওয়ালা; যার সঙ্গে বডিগার্ড থাকে। যার বয়ফ্রেন্ড এত পাওয়ারফুল, তিনি কেন এইসব বাদ দিয়ে দালাল ইমনের সঙ্গে নিভৃত স্থানে ইন সিকিউরট অবস্থায় মিটিং করতে গেলেন?  যেখানে বিপদের ভয় আছে, সেখানে বডিগার্ড না নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তাদের রাখলেন এবং দরজার বাইরে বয়ফেন্ডকে অপেক্ষায় রাখলেন! 

(পাঁচ) এত পাওয়ারফুল বয়ফ্রেন্ড কেন ওই সময়ে আশিয়ান সিটি হাসপাতালে গিয়ে নিজের গার্লফ্রেন্ডকে (স্নিগ্ধা) উদ্ধার করল না? অথচ মডেল হুমকি দিচ্ছেন এর সঠিক বিচার না হলে তিনি  নাকি তার বয়ফ্রেন্ডকে দেশ উড়িয়ে দেবেন! দেশের অস্থির রাজনৈতিক অবস্থার মধ্যে খোদ সরকারকে হুমকি দিয়ে ফেললেন!

(ছয়) স্নিগ্ধা বলছিলেন, তাকে বোঝানোর জন্য দালাল ইমন নাকি তাকে বাথরুমে নিয়ে যান এবং সেখানে বিরাট এক গোপন সুরঙ্গ আছে। আবার বাথরুমেও নাকি সিকিউরড নাম্বার বসানো! প্রশ্ন হলো  নজরুল সাহেবের এত বড় বিশাল অফিসে দালাল তাকে বাথরুমেই নিয়ে গেলেন! আর সেখানে তিনি যেতে রাজিইবা হলেন কেন? তাহলে কি এই বাথরুম কিংবা এই সুরঙ্গ তার আগেরই চেনা ছিল?

এছাড়া মিডিয়ার সামনে স্নিগ্ধার কথাবার্তায় অনেকটা দাম্ভিকতার সঙ্গে তুলনা করেছেন অনেকে। তার অহংবোধ দেখে কেউ কেউ তাকে বলিউড নায়িকা বলে মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি মডেলের স্টাইল, উচ্চারণ, ইংরেজি বলার ধরন শুনে কারও কারও প্রশ্ন জেগেছে- মাত্র একটা সিনেমা করে নিজেকে কেমন করে এত বড় অভিনেত্রী ও দেশের সবচেয়ে সুন্দরী ভাবেন তিনি!

এদিকে, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে নিজের প্রকাশ পাওয়া কয়েকটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর  স্নিগ্ধা চৌধুরী আজ মঙ্গলবার ফেসবুকে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি জানান, নির্যাতনের মাত্রা এতই বেশি ছিলে যে প্রাণে বাঁচতে আশিয়ান হাসপাতালের দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দিয়েছিলেন। তাকে প্রায় ৬০ বার লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল।

নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি গণমাধ্যমকর্মী, সহকর্মী, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন। ফেসবুক পোস্টে স্নিগ্ধা লেখেন, জীবনের এই কঠিন সময়ে যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের প্রতি তিনি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। নির্যাতনের শারীরিক ক্ষত একসময় সেরে উঠলেও মানসিকভাবে তিনি এখনও ভীষণ ভেঙে পড়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়েই সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে হয়েছিল। সেখানে বলা কোনো বক্তব্যের মাধ্যমে কাউকে অসম্মান বা ছোট করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। যদি কোনো সহকর্মী বা মডেলিং অঙ্গনের কেউ তার কথায় কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পোস্টে স্নিগ্ধা দাবি করেন, তিনি ন্যায়বিচার চান, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো মেয়েকে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়। দেশের নারীদের কাছে দোয়া ও পাশে থাকার আহবান জানান তিনি।

অভিনেত্রীর অভিযোগ, তাকে পানীয়ের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে জোরপূর্বক খাওয়ানো হয়েছিল। এ কারণে এখনও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। এছাড়া তাকে লাঠি দিয়ে প্রায় ৬০ বার আঘাত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। স্নিগ্ধার ভাষ্য, প্রাণ বাঁচাতে তিনি আশিয়ান মেডিক্যাল ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দেন। মায়ের দোয়া ও ভাগ্যের জোরে তিনি বেঁচে ফিরেছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন। চিঠির শেষাংশে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে তার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠা। সুস্থ হয়ে আবারও নিজের কর্মজীবনে ফিরতে চান বলেও জানান তিনি।