২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের ম্যাচে ব্রিল এমবোলোর আলোচিত লাল কার্ডটি নিয়ে এবার নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)। আজ (মঙ্গলবার) প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, কানসাস সিটির সেই ম্যাচে সুইস ফরোয়ার্ড এমবোলোর দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্তটি ভিএআরের নিয়মের বাইরে গিয়ে একটি ভুল সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে স্কোর যখন ১-১ সমতায়, ঠিক তখনই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সেই ঘটনা ঘটে। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ২৯ বছর বয়সী এমবোলো। মাঠের রেফারি জোয়াও পিনেইরো প্রথমে পারেদেসকেই হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন। কিন্তু ভিএআর রুম থেকে রেফারিকে জানানো হয় পারেদেস ফাউল করেননি, বরং এমবোলো অভিনয় করেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে পারেদেসের কার্ড প্রত্যাহার করে এমবোলোকেই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি, যার ফলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ড শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে দুই গোল হজম করে ৩-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।
ম্যাচ শেষে সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘রেফারি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি জানি তারা তাদের রেফারিকে রক্ষা করবে, কিন্তু এই নিয়ম আজ আমাদের ম্যাচটা ধ্বংস করে দিয়েছে এবং এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এভাবে বিদায় নেওয়াটা অনেক কষ্টের।’ আর্জেন্টিনা পরবর্তীতে ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে গেলেও, এমবোলোর ওই লাল কার্ড নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক থামেনি।
আইএফএবি তাদের বিবৃতিতে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, ভিএআরের ‘ভুল পরিচয়’ সংক্রান্ত প্রটোকল প্রয়োগের ক্ষেত্রে সীমারেখা লঙ্ঘন করা হয়েছিল। সংস্থাটি তাদের ব্যাখ্যায় পরিষ্কার করে বলেছে, ‘কোনো হলুদ কার্ড যদি দ্বিতীয়বার কার্ড দেখানোর উপলক্ষ না হয়, তবে ভিএআর কেবল ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্যই কেবল হস্তক্ষেপ করতে পারে। তবে মাঠের সেই ঘটনা বা অপরাধের মূল ভিত্তিটা সঠিক ছিল কি না, তা নিয়ে কোনো বিশ্লেষণ বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ক্ষমতা ভিএআরের নেই।’
আইএফএবি আরও জানিয়েছে, ফিফা বিশ্বকাপে অভিনয় (সিমুলেশন) রোধে এই ধারা ব্যবহারের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে প্রশংসিত হলেও, আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি এভাবে ব্যবহার করা যাবে না। অর্থাৎ ভবিষ্যতে এই নিয়ম যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকলেও, এমবোলোর ক্ষেত্রে তা নিয়মবহির্ভূত ছিল।
এদিকে আইএফএবির এই ব্যাখ্যামূলক বার্তার পর ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে। নতুন মৌসুম সামনে রেখে উয়েফা জোর দিয়ে জানিয়েছে, ‘ভিএআর ম্যাচ পুনর্নির্ধারণ বা নতুন করে রেফারি করার জন্য নয়।’ লম্বা সময় ধরে ভিডিও রিভিউ কেবল তখনই করা উচিত যখন মাঠের সিদ্ধান্তটি স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে ভুল হয়। অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ রিভিউ পরিহার করে ফুটবলে ভিএআরের আরও হালকা বা সীমিত ব্যবহারের ওপরই জোর দিচ্ছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের এই সংস্থা।