আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দাবি করেছেন, বিশ্বকাপজুড়ে তার দেশের জাতীয় দল ও সমর্থকদের লক্ষ্য করে একটি সমন্বিত 'অ্যান্টি-আর্জেন্টিনা চক্রান্ত' চালানো হয়েছে। আর পুরো প্রচারণাটি আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে মদদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ব্রাজিল ও মেক্সিকোর বর্তমান সরকার।
স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনে দেওয়া বিস্ফোরক এক সাক্ষাৎকারে হাভিয়ের মিলেই দাবি করেন, আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে সমালোচনার ঝড় তোলা হয়েছে, তা স্বাভাবিক ছিল না।
তিনি বলেন, “এটি আসলে কিছু প্রগতিশীল বা বামপন্থী মস্তিষ্কের কাজ, যারা চায় না আমাদের স্বাধীনতার আদর্শ ও সংস্কারগুলো সফল হোক।”
মিলপই অভিযোগ করেন, এই চক্রান্তের পেছনে সবচেয়ে বড় আর্থিক যোগান দিয়েছে ব্রাজিলের বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সরকার। পরবর্তীতে এর সাথে যুক্ত হয় মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টি।
টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ তোলা এবং 'ফিফা গোপনে মেসি ও আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিচ্ছে'—এমন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানোর পেছনে এই গোষ্ঠীগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্যামুয়েল এল জ্যাকসনের মন্তব্য ও বর্ণবাদ বিতর্ক
বিশ্বকাপের ১৯ জুলাইয়ের ফাইনাল ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগুন জ্বালিয়ে দেন প্রখ্যাত মার্কিন অভিনেতা স্যামুয়েল এল জ্যাকসন। এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি কৃষ্ণাঙ্গ সমর্থকদের উদ্দেশ্যে লেখেন, “দয়া করে আর্জেন্টিনার হয়ে শুভকামনা জানাবেন না। আর্জেন্টিনা ঐতিহাসিকভাবে অন্যতম বর্ণবাদী একটি দেশ।”
এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আর্জেন্টিনাসহ বেশ কিছু সংস্থা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা বললেও গোটা দেশকে ঢালাওভাবে বর্ণবাদী আখ্যা দেওয়ার সমালোচনা করেছে। তবে ডিজিটাল বিশ্লেষক ও গবেষকরা মনে করছেন, সামাজিক মাধ্যমে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া ক্ষোভটি ব্যাপক হলেও এর পেছনে কোনো রাষ্ট্রীয় চক্রান্তের সুস্পষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, আর্থিক মন্দা এবং সম্প্রতি জনপ্রিয়তা তলানিতে পৌঁছানোর সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতেই মিলেই এই চক্রান্তের তত্ত্ব সামনে এনেছেন।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান