টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক

বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

দেশে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে ব্যবহৃত মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিষয়ে তদন্ত করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট) মহাপরিচালককে এ নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, বিএসটিআই, বুয়েট (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়) এবং বিসিএসআইআরের (বাংলাদেশ বিজ্ঞান, শিল্প ও গবেষণা পরিষদ) একজন করে প্রতিনিধির মাধ্যমে কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। রুলে টুথপেস্টের ক্ষেত্রে জাতীয় মানদ- ও নির্ধারিত শর্ত নিশ্চিতে ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিবাদীদের (রিট মামলার বিবাদী) রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন। আব্দুল্লাহ আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গবেষণায় টুথপেস্টে এখন পর্যন্ত শুধু প্লাস্টিকের কনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একটি বেসরকারি সংস্থা এ গবেষণা করেছে। এটি আরও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এর বাইরে অন্য কোনো ক্ষতিকর উপাদান আছে কি না, তাও নিশ্চিত হতে হবে। হাইকোর্ট আমাদের বক্তব্য শুনে বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’

গত রবিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) এক বছরের গবেষণায় বাজারের ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে দেখেছে এর মধ্যে ২৬টিতে; অর্থাৎ ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে।