এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ইউএনডিপির উদ্যোগে সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় বীমার উদ্ভাবনী ধারণা দিয়ে ‘ইন্স্যুরেন্স ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর আওতায় ৭৯ লাখ টাকা পুরস্কার পেয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স এবং ব্র্যাক ব্যাংক। এর মধ্যে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স পাচ্ছে প্রায় ৪৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং ব্র্যাক ব্যাংক পাচ্ছে প্রায় ৩৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁও পর্যটন ভবনের শৈশপ্রপাত মিলনায়তনে এ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগের পরিচালক চৌধুরী লিয়াকত আলী এবং ইউএনডিপির সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার এম. আসাদুজ্জামান। এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজিম হাসান সাত্তার।
পুরস্কারের শর্ত হিসেবে দাখিলকৃত উদ্ভাবনী ধারণার আওতায় আগামী এক বছরে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সকে ১০ হাজার উদ্যোক্তার মাঝে এবং ব্র্যাক ব্যাংককে ৫ হাজার ৫৭৫ জন উদ্যোক্তার মাঝে নিজস্ব তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ করতে হবে। আর পুরস্কারের টাকা ব্যয় করা হবে ইন্স্যুরেন্স প্রোডাক্ট ডিজাইন, বিতরণ ব্যবস্থায় সচেতনতা তৈরি এবং ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থাপনা মনিটরিং এবং ব্যবস্থাপনা খাতে।
এক্ষেত্রে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ৪টি ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা পদক্ষেপ, আরডিআরএস, সিডিআইপি ও দেশা এবং ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকবে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ ভাগ হলেও দেশের ১ কোটি ১৭ লাখের বেশি সিএমএসএমই উদ্যোক্তার মধ্যে সরাসরি ব্যাংকঋণ পান মাত্র শতকরা ৯ ভাগ উদ্যোক্তা। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ পান আরও প্রায় শতকরা ১৪ ভাগ। বাকি প্রায় শতকরা ৭৭ ভাগ উদ্যোক্তাই এখনো ঋণের আওতার বাইরে। এসব উদ্যোক্তাকে ঋণ সুবিধার আওতায় আনতে এবং আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ইউএনডিপির আহ্বানে গত ১৫ জানুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত ১৮টি প্রস্তাব জমা পড়ে। মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে ১৩টি প্রস্তাব প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হয়। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত মূল্যায়ন কাঠামোর আলোকে কারিগরি সক্ষমতা, উদ্ভাবনী বৈশিষ্ট্য, আর্থিক প্রস্তাব, বাস্তবায়নযোগ্যতা, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ সিএমএসএমইর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং টেকসই কার্যকারিতা বিবেচনা করে ৫টি প্রস্তাব সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়। সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ জুরি বোর্ডের সামনে তাদের প্রস্তাব উপস্থাপন করে। জুরি বোর্ডের বিস্তারিত পর্যালোচনা, আলোচনা এবং চূড়ান্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স প্রথম স্থান এবং ব্র্যাক ব্যাংক দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। ব্যাংক, আর্থিক ও বীমা প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এসএমই ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, দেশের প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই)। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ সিএমএসএমই। এ খাতে প্রায় ৩ কোটিরও বেশি জনবল কর্মরত আছে। অধিক জনসংখ্যা এবং সীমিত সম্পদের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত সুরক্ষার মাধ্যমে এসএমই খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন সরকারের জাতীয় শিল্পনীতি, এসএমই নীতিমালা এবং এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধাভোগী প্রায় ২২ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, যাদের ৬০ শতাংশই নারী-উদ্যোক্তা।