স্বপ্নের ডাগআউটে জিদান

ফুটবলবিশ্বে অনেকেই যাকে বলেন জীবনের চূড়ান্ত আরাধ্য এক অধ্যায়, জিনেদিন জিদানের কাছে সেটাই ছিল নিখাদ এক ‘স্বপ্নের চাকরি’। রিয়াল মাদ্রিদের এ সাবেক সফল কারিগরের হাতেই এবার আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হলো সেই কাক্সিক্ষত ফরাসি জাতীয় দলের দায়িত্ব। দুই দশক আগে মাঠের সবুজ গালিচায় যে জাদুতে গোটা বিশ্বকে মাতিয়ে রেখেছিলেন, এবার ডাগআউটের টাচলাইন থেকে সেই একই জাদুকরী ছোঁয়া ফরাসি শিবিরে ফিরিয়ে আনাই হবে তার নতুন মিশন।

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয় এবং পরবর্তী সময়ে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬-৪ গোলের এক রুদ্ধশ্বাস ও গোলবন্যার ম্যাচে হেরে চতুর্থ স্থান নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেছিল ফ্রান্স। সেই হতাশার পরই অবসান ঘটে কোচ দিদিয়ের দেশমের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের।

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই ফরাসি গণমাধ্যমে গুঞ্জন উঠেছিল যে দেশমের উত্তরসূরি হিসেবে ফরাসি ডাগআউটে দেখা যাবে জিদানকে। অবশেষে মঙ্গলবার ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সেই জল্পনারই পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ঘটল। জিদানের চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত।

দায়িত্ব নেওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে জিদান জানান, বিগত পাঁচ বছর ফুটবলের বাইরে থাকার সময় ক্লাবগুলোর পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব পেলেও জাতীয় দলের ডাগআউটে বসার একমাত্র লক্ষ্য থেকেই তিনি সবকিছু ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার দূরে থাকা পাঁচ বছরে ক্লাবগুলোর পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাব এসেছিল, কিন্তু আমি সেগুলোর সবই ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়াই ছিল আমার একমাত্র চাওয়া।’

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই দুই সতীর্থের দীর্ঘ বন্ধুত্বের সম্পর্ক এবার রূপ নিয়েছে এক নতুন পেশাদার অধ্যায়ে। দেশম তার দীর্ঘ ১৪ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে ১৮৫ ম্যাচে ১২০ জয়ের পাশাপাশি ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ট্রফি, ইউরো ২০১৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনাল এবং ২০২০-২১ নেশনস লিগ উপহার দিয়ে এক অবিস্মরণীয় উত্তরাধিকার রেখে গেছেন।

২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছাড়ার পর দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে ছিলেন ৫৪ বছর বয়সী জিদান। দায়িত্ব গ্রহণ করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জিদান বলেন, ‘আমি অনেকবারই বলেছি ফরাসি জাতীয় দলের চেয়ে বড় আর কিছু নেই। তাই এই দলের কোচ হতে পারাটা যেমন আনন্দের, তেমনি অত্যন্ত গর্বের।’

নিজের দায়িত্ববোধের কথা জানিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটি একই সঙ্গে একটি বড় দায়িত্বও। আমার মধ্যে অনেক আবেগ কাজ করছে, তবে এই চ্যালেঞ্জ নিতে আমি পুরোপুরি প্রস্তুত। আর এই চ্যালেঞ্জটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে। আমি এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো, নির্বাহী কমিটি এবং পুরো ফেডারেশনের প্রতি তাদের আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। পাশাপাশি দিদিয়ের ও তাদের স্টাফদের ১৪ বছরের সেবাকেও আমি কুর্নিশ জানাই।’

কোচ হিসেবে নতুন এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের আগে নিজের পেছনের পথচলা ও সাফল্যের কারিগরদের কথাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন জিদান। ফরাসি ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের সুদূরপ্রসারী ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ আমার সব কোচের প্রতিও আমার একটি বিশেষ ভাবনা বা কৃতজ্ঞতা রয়েছে।’