ক্যাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি মালবাহী জাহাজে ইউক্রেনের হামলার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এতদিন পরোক্ষভাবে চলা ইরান-ইউক্রেন উত্তেজনা এবার সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা একটি নতুন আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করছে। সূত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক মাধ্যমে জানান, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি ইরানকে উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং রাশিয়ার প্রতি সামরিক সহায়তা বন্ধ করার অনুরোধ করেন। সিবিহার দাবি, ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য ছিল রুশ যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজ; কোনো বেসামরিক জাহাজ বা সাধারণ মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করা হয়নি।
অন্যদিকে আরাঘচি বলেন, ইউক্রেন তাকে আশ্বস্ত করেছে যে হামলাটি অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং কিয়েভ উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের নাগরিক বা স্বার্থের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয় এবং ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এর আগে আরাঘচি জানিয়েছিলেন, ইরানি জাহাজে হামলায় একজন নাবিক নিহত ও আরেকজন আহত হয়েছেন এবং এ ঘটনা "জবাবহীন থাকবে না"। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইল ইউরোপকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে টানতে এ হামলায় উসকানি দিয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজিও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর যেকোনো হামলার মূল্য দিতে হয় এবং ইউক্রেনও তার ব্যতিক্রম হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়াকে ইরানের সামরিক সহায়তা, ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ক্যাস্পিয়ান সাগরের এ হামলা দুটি পৃথক সংঘাতকে একই ভূরাজনৈতিক সংকটে পরিণত করতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ইরান ও ইউক্রেনের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।