সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল বলেছেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি স্কুল চলাকালীন নয়, ছুটির পর ধারণ করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেছেন, অনুমতি ছাড়া ভিডিওটি ডাউনলোড করে নেতিবাচক ক্যাপশনে প্রচার করে তাকে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।
বিউটি রাণী পাল বলেন, তিনি রিল তৈরি করা শিখছিলেন। স্কুল ছুটির পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হাঁটার সময় এক সহকর্মী ভিডিওটি ধারণ করেন।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬-এ সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা নির্বাচিত বিউটি রাণী পাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তার ফেসবুক আইডিতে থাকা ভিডিওগুলোতে শিশুদের ইংরেজি ও গণিত শেখানোর বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম দেখা যায়। গানসংবলিত যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, সেটি তিনি ইতোমধ্যে মুছে দিয়েছেন।
সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম ও ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন। সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উন্নত সমাজ গড়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিউটি রাণীর অভিযোগ, ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেসবুক পেজের সঙ্গে যুক্ত প্রবাসী আসিফ আহমদ ইকবাল হিরণ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক থেকে অনুমতি ছাড়া ভিডিওটি ডাউনলোড করে সংবাদ আকারে প্রকাশ করেন এবং ব্যক্তিগত ফেসবুকেও আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
তার দাবি, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে আসিফ ইকবাল হিরণ এ কাজ করেছেন। তিনি ফোন করে ব্যক্তিগত বিভিন্ন প্রশ্নও করেন। ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানালেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিক্ষিকা।
ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। অনেক শিক্ষক একই গান ব্যবহার করে ভিডিও প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিউটি রাণী পাল বলেন, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো উচিত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে হেনস্তা করা সমাধান হতে পারে না। তিনি শিক্ষকদের সুরক্ষায় পৃথক আইন প্রণয়নের দাবিও জানান।
অভিযোগের বিষয়ে আসিফ আহমদ ইকবাল হিরণ বলেন, তিনি ভিডিওটি নিয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষিকার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, এর বাইরে কিছু বলেননি। হাঁটার দৃশ্যকে ‘অশ্লীল’ হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি বলিনি, মানুষ বলেছে।’
‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ কোনো নিবন্ধিত অনলাইন গণমাধ্যম নয় বলেও তিনি স্বীকার করেন।