ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল দেশটির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোর জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে। বোর্দোর কাছে ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা, সামরিক গবেষণা কেন্দ্র এবং মহাকাশ শিল্প-কারখানাগুলোকে ঘিরে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছরের চতুর্থ বড় তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) থেকে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়ে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে, যা এ সময়ের স্বাভাবিক তাপমাত্রার তুলনায় প্রায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দাবানল নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীদের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
রবিবার আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, 'আমরা বর্তমানে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, এটি আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি।'
ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেস্ক্যুর জানান, জিরন্দ অঞ্চলে দাবানলের কারণে ১৩ হাজারের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বা কর্মীদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, দাবানল এখন এমন এলাকায় পৌঁছে গেছে, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট তৈরির কারখানায় বিস্ফোরক উপাদান সংরক্ষণ করা হয়। আগুনের প্রায় ১৯ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত সাতটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে।
সরিয়ে নেওয়া শহরগুলোর একটি সাঁ-মেদার-আঁ-জাল। এখানে অবস্থিত একটি বড় কারখানায় ইউরোপের আরিয়ান মহাকাশ রকেট এবং ফ্রান্সের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য প্রপেল্যান্ট উৎপাদন করা হয়।
এছাড়া কাছাকাছি সাঁত-এলেন এলাকায় অবস্থিত আরেকটি কারখানায় অ্যামোনিয়াম পারক্লোরেট উৎপাদিত হয়, যা কঠিন জ্বালানিচালিত রকেটের প্রপেল্যান্ট তৈরিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ জারক (অক্সিডাইজার)।