২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ১৪ দলের নতুন ও বর্ধিত ফরম্যাট চালুর ঘোষণা আসার পর থেকেই বিশ্ব ক্রিকেটে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। ঠিক এমন সময়ে আসন্ন এই মেগা টুর্নামেন্টে স্কোয়াডের আকার বাড়ানোর জোরালো দাবি তুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড।
তার মতে, ম্যাচের সংখ্যা বাড়লেও যদি দলের সদস্য সংখ্যা আগের মতো ১৫ জনেই সীমিত রাখা হয়, তবে তা খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত ধকল তৈরি করবে এবং টুর্নামেন্টের মানক্ষুণ্ন করবে।
আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় যৌথভাবে আয়োজিত ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে দল বাড়ার পাশাপাশি ফরম্যাটেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় একটি 'সুপার সিরিজ' এবং সেমিফাইনালের আগে নতুন 'সুপার সেভেন' রাউন্ড যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে দলগুলোকে খেলতে হবে আরও বেশি ম্যাচ। ২০২৩ সালের আসরে চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে যেখানে মোট ১১টি ম্যাচ খেলতে হয়েছিল, ২০২৭ সালের ফরম্যাটে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে কোনো কোনো দলকে ১৩ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৫টি পর্যন্ত ম্যাচ খেলতে হতে পারে। একই সময়ের ফ্রেমে ম্যাচের এই পাহাড়সম চাপ সামলাতে স্কোয়াড বড় করার কোনো বিকল্প দেখছেন না অজিদের এই কোচ।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এসইএন রেডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘আমার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এটি যদি আপনার প্রধান টুর্নামেন্ট বা ইভেন্ট হয়, তবে আপনার স্কোয়াডের আকার কেমন হওয়া উচিত? গত বিশ্বকাপে ১৫ জনের স্কোয়াড নিয়ে আমাদের কী ধরনের বিপাকে পড়তে হয়েছিল, সেটি আমরা জানি। আমার মনে হয়, নিউজিল্যান্ডও একই পরিস্থিতিতে পড়েছিল, কারণ আমাদের দলে বেশ কিছু চোটের সমস্যা ছিল যার মধ্যে ট্রাভিস হেডের চোটটি ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। নিউজিল্যান্ডের হয়ে কেন উইলিয়ামসন ও আরও দুয়েকজন চোটে পড়েছিল।’
বিভিন্ন কন্ডিশনে খেলা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে আপনার কাছে বেছে নেওয়ার মতো মাত্র ১২-১৩ জন খেলোয়াড় থাকে। আপনি তখন ওই চোটাক্রান্ত খেলোয়াড়দের শুরুর রাউন্ডগুলোতে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, অথচ যেভাবে খেলতে চান বা দল সাজাতে চান, সেভাবে দল গঠন করতে পারেন না। বিশেষ করে এমন সব দেশে যখন খেলবেন, যেখানে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব কিংবা পশ্চিম সব জায়গার কন্ডিশনে বেশ বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।’
বিশ্বকাপের আগের ১৪ মাসে অস্ট্রেলিয়া দলকে ভারত ও ইংল্যান্ডে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজসহ প্রায় ২১টি টেস্ট ম্যাচ খেলতে হবে। দলের মূল পেসার ও অভিজ্ঞ ব্যাটারদের ওপর যার মারাত্মক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। ম্যাকডোনাল্ডের মতে, বড় স্কোয়াড থাকলে ফিটনেস নিয়ে সংশয়ে থাকা সেরা খেলোয়াড়দেরও ঝুঁকি নিয়ে শুরু থেকে স্কোয়াডে টিকিয়ে রাখা সহজ হবে, যা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে সেরা তারকাদের লড়াই নিশ্চিত করবে।
এদিকে নতুন এই ফরম্যাটে সহযোগী দেশগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ম্যাকডোনাল্ড। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অ্যাসোসিয়েট দেশগুলোর অভাবনীয় উন্নতি দেখা গেলেও, ওয়ানডে বিশ্বকাপে তাদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ রাখা হয়নি বলে মনে করেন তিনি। যদিও আইসিসি এখনো ১৫ জনের স্কোয়াড বহাল রাখার পক্ষেই রয়েছে এবং প্রতিটি ম্যাচের মাঝে দলের জন্য ন্যূনতম দুই দিনের বিরতি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছে, তবুও অজি কোচের এই দাবি নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করবে ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আইসিসিকে।