শিল্প খাতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী শিক্ষার্থীদের একই মঞ্চে এনে শিক্ষাক্ষেত্র ও করপোরেট জগতের মধ্যকার দূরত্ব ঘোচাতে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) প্রাইম ব্যাংক পিএলসি সফলভাবে আয়োজন করল তাদের ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি “এমপাওয়ারিং ইয়ুথ–সিজন ২.০”-এর আরেকটি পর্ব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (গ্রেড-১) রূপ রতন পাইন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সরকারি ও বেসরকারি খাতে, বিশেষত বাংলাদেশ ব্যাংকে ভালো ক্যারিয়ার গড়তে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা প্রথম থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস ও আর্থিক সাক্ষরতা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং সুবিধা কাজে লাগায়—যা ভবিষ্যতে আর্থিক স্থিতিশীলতা ও স্বাবলম্বিতার ভিত গড়ে দেবে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কনজ্যুমার অ্যান্ড এসএমই ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান এম. নাজিম এ. চৌধুরী। কর্মসংস্থান-উপযোগিতা এবং আজকের প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি তিনি নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন—কী ধরনের চ্যালেঞ্জ তিনি মোকাবিলা করেছেন এবং কোন সিদ্ধান্তগুলো তার পথচলাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে, সে সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের জন্য তা ছিল দৃঢ়তা ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাধাকে নেতৃত্বের সোপানে রূপান্তরের এক বাস্তব দৃষ্টান্ত।
প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড স্কুল ব্যাংকিং এম এম মাহবুব হাসান কথা বলেন ব্যাংকটির ৩১ বছরের গৌরবোজ্জ্বল পথচলা ও তার উল্লেখযোগ্য অর্জন নিয়ে, যার মধ্যে রয়েছে ব্যাংকটির স্বতন্ত্র একাডেমিক উদ্যোগ প্রাইমএকাডেমিয়া। তিনি আরও গুরুত্বারোপ করেন আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনে প্রবেশের আগে সুষ্ঠু অর্থ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা অর্জনের ওপর।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বিবিএ প্রোগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক ড. সালমা করিম।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তারা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে উদ্ভাবন, আর্থিক সাক্ষরতা, ডিজিটাল রূপান্তর ও নিরন্তর শেখার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি তাঁরা শিক্ষার্থীদের শক্তিশালী পেশাগত দক্ষতা গড়ে তোলা এবং নৈতিক নেতৃত্বের চর্চার প্রতি উৎসাহিত করেন, যা তাদের সফল ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব, যেখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি শিল্প বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে ক্যারিয়ার গঠন ও ব্যাংকিং পেশা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা নেওয়ার সুযোগ পান। এ ছাড়া আয়োজন করা হয় একটি লাইভ মক ইন্টারভিউ সেশন, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব সাক্ষাৎকারের অভিজ্ঞতা, গঠনমূলক মতামত এবং করপোরেট নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে মূল্যবান ধারণা লাভ করেন।
“এমপাওয়ারিং ইয়ুথ” উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংক শিক্ষাক্ষেত্র ও শিল্প খাতের মধ্যে সেতুবন্ধ আরও মজবুত করে চলেছে—তরুণ প্রতিভাদের ব্যবহারিক জ্ঞান, ক্যারিয়ার নির্দেশনা ও আর্থিক সাক্ষরতা সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মধ্য দিয়ে, যা বাংলাদেশে দক্ষ পেশাজীবীদের পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতি ব্যাংকটির অঙ্গীকারকেই আরও একবার সুদৃঢ় করে।