ভেন্যু থেকে শুরু করে আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থা সবকিছু প্রস্তুত রেখেই ২০৩৮ কিংবা ২০৪২ সালের বিশ্বকাপ একক বা যৌথভাবে আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে জার্মানি। বুন্দেসলিগার ক্লাব আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের প্রধান নির্বাহী এবং জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফবি) পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এক্সেল হেলম্যান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন বড় স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন।
তবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের উচ্ছ্বাসের মাঝেই ফিফার অতিরিক্ত টিকিটের দাম ও অতিমাত্রায় বাণিজ্যিক মানসিকতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশও করেছেন তিনি।
'দ্য অ্যাথলেটিক'-কে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে হেলম্যান বলেন, ‘জার্মানির স্টেডিয়াম, পরিবহন ও হোটেল অবকাঠামো পুরোপুরি তৈরি। প্রতিটি ম্যাচ হাউসফুল হবে এবং টুর্নামেন্ট সফল হবে। ২০৩৮ এর জন্য চেষ্টা চালানোর একটা সুযোগ রয়েছে, তবে ২০৪২ সালের জন্য আমাদের একটি সফল আসর চালানোর বিশাল সম্ভাবনা আছে।’
তবে ২০৩৮ সালের আসর পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে ফিফার ‘কনফেডারেশন রোটেশন নীতি’। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কোনো মহাদেশে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর অন্তত দুটি চক্র পার না হলে সেখানে আবার আসর বসার সুযোগ থাকে না। যেহেতু ২০৩০ আসরটি যৌথভাবে হবে তিন মহাদেশে এবং ২০৩৪ আসরটি এশিয়ায় হচ্ছে, তাই ২০৩৮ সালের জন্য উত্তর আমেরিকা বা ওশেনিয়া অঞ্চল কিছুটা এগিয়ে থাকবে। তবুও ফিফা চাইলে এই নিয়মে কিছুটা শিথিলতা আনতে পারে বলে মনে করছে জার্মানি। এর আগে ২০০৬ সালের সফল আয়োজনের অভিজ্ঞতা দেশটির অর্থনীতি ও পর্যটনে দারুণ সুফল বয়ে এনেছিল। ১৯৭৪ আসরে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল তারা।
এদিকে ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্ট আয়োজনের ভাবনার পাশাপাশি বর্তমান ফুটবল প্রশাসনের বাণিজ্যকীকরণ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন জার্মান এই শীর্ষ কর্মকর্তা। টিকিটের চড়া দাম সাধারণ দর্শকদের স্টেডিয়াম বিমুখ করছে বলে মনে করেন তিনি। ফ্রাঙ্কফুর্টের উদাহরণ টেনে হেলম্যান জানান, ইউরোপে ধনী ও সাধারণ দর্শকদের টিকিটের দামে ভারসাম্য রাখা হলেও ফিফার নীতি যেন কেবল বিত্তশালীদের দিকেই ঝুঁকে আছে। এই বিষয়ে তিনি বলেন,
‘ফুটবল জনগণের খেলা এবং এটি সাধারণ মানুষেরই থাকা উচিত। তরুণেরা মাঠে এসে সরাসরি খেলা না দেখলে ফুটবলের প্রতি সেই আবেগ বা আকর্ষণ তৈরি হবে না। টিকিটের মূল্যের কারণে যদি নির্দিষ্ট কিছু ধনী গোষ্ঠীই কেবল মাঠে আসার সুযোগ পায়, তবে তা ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ভীতিকর।’
ফিফার বাণিজ্যিক নীতির বিরুদ্ধে বিশ্ব ফুটবলের অনেকেই কূটনৈতিক কারণে মুখ খুলতে ভয় পেলেও জার্মানি এই নিয়ে রাখঢাক করতে নারাজ। ডিএফবির আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা আন্দ্রেয়াস রেটিগও এর আগে ফিফার অস্বচ্ছ ও হঠকারী টিকিট মূল্য নির্ধারণের নীতির সমালোচনা করেছিলেন।
সব মিলিয়ে জার্মানি শেষ পর্যন্ত এককভাবে নাকি ফ্রান্সের মতো কোনো প্রতিবেশী দেশের হাত ধরে যৌথ আয়োজনের পথে হাঁটবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে ২০৩৮ বা ২০৪২ সালের আসরকে লক্ষ্য করে ইউরোপীয় ফুটবল যে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে তা হেলম্যানের বক্তব্যেই স্পষ্ট।