দুর্যোগ ও জলবায়ুর প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে দেশের পৌনে ২ কোটির বেশি প্রবীণ জনগোষ্ঠী

প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ। দেশে বর্তমানে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় নানা পদক্ষেপ থাকলেও দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ বা ১ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি প্রবীণ নাগরিক অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অবহেলিত থেকে যাচ্ছেন। একটি জলবায়ু সহনশীল ও দুর্যোগমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সামাজিক নেতৃত্বকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করার জোর দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে 'বাংলাদেশে দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন: প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিমূলক দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে জাতীয় নীতিগত রূপরেখা' শীর্ষক একটি জাতীয় পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) আয়োজিত এই সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২২ থেকে ২৩ শতাংশ বা প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ প্রবীণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।

ভবিষ্যতের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী টেকসই ব্যবস্থাপনা গ্রহণের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় প্রবীণবান্ধব আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন, তাদের উপযোগী ঘরবাড়ি নির্মাণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাদ্যসামগ্রী নিশ্চিত করাসহ প্রবীণদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ত্রাণ বিতরণের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি এখন থেকেই প্রবীণ স্বাস্থ্যবিমা, বিশেষ পরিচয়পত্র, সামাজিক সুরক্ষা ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে প্রবীণ নারীদের সুরক্ষায় আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তাব পেশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে পেশকৃত ‘ঢাকা ঘোষণা, ২০২৬’-এ জাতীয় সব ধরনের দুর্যোগ নীতিতে প্রবীণদের অন্তর্ভুক্ত করা, তাদের জন্য আলাদা তথ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা, টেকসই পরিকাঠামো নির্মাণ এবং আন্তঃপ্রজন্মীয় সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়। 'কাউকে পেছনে ফেলে নয়'—এই নীতি বাস্তবায়নে প্রবীণ ও নবীনদের একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর আলোকপাত করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন এবং প্রবীণদের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্ব দেন। রিকের নির্বাহী পরিচালক ও দুর্যোগ বিষয়ক নেটওয়ার্ক ‘নিরাপদ’-এর চেয়ারপার্সন আবুল হাসিব খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশিষ্ট গবেষক, উন্নয়নকর্মী ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। তরুণ ও প্রবীণ প্রজন্মের বক্তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা ভাতা বাড়িয়ে জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।