ভালো ক্রিকেট খেললে অস্ট্রেলিয়া আবার আমন্ত্রণ জানাবে: শান্ত

অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে অজিদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ পাওয়ায় নিজেদের ভীষণ ভাগ্যবান মনে করছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। যদিও টেস্ট ফরম্যাটে দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে রাখঢাক রাখেননি তিনি, তবে সামনের সিরিজে ভালো ক্রিকেট খেলে প্রতিপক্ষের সম্মান আদায় করে নেওয়াই এখন শান্ত-হৃদয়দের মূল লক্ষ্য।

অস্ট্রেলিয়া সফরকে সামনে রেখে আজ (বৃহস্পতিবার) সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা খুব লাকি। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাদের সঙ্গে টেস্ট খেলতে পারছি। গত ২৩ বছর ধরে আমাদের আরও বেশি ম্যাচ খেলা উচিত ছিল। যদিও এই সময়ে আমরা টেস্ট ফরম্যাটে ভালো ক্রিকেট খেলিনি। তবে আমরা যদি আরও আগে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারতাম, তাহলে হয়তো অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আমাদের আরও কিছু টেস্ট খেলার সুযোগ হতো।’

সবশেষ জিম্বাবুয়ে সফরে একমাত্র টেস্টে আড়াই দিনে হারের হতাশা এবং দলের বেশ কয়েকজন মূল খেলোয়াড়ের ইনজুরি নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে রয়েছে বাংলাদেশ দল। নাহিদ রানা লম্বা সময়ের জন্য ছিটকে যাওয়ার পাশাপাশি লিটন দাস ও শরিফুল ইসলাম প্রথম টেস্টের স্কোয়াডের বাইরে রয়েছেন। চোটের এই মিছিলে প্রথম টেস্টের জন্য ১৫ সদস্যের দলে জায়গা মিলেছে সৌম্য সরকার, জাকের আলী ও মুশফিক হাসানদের। এছাড়া বিশ্রাম কাটিয়ে দলে ফিরেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ।

দলের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও লড়াই করার মানসিকতা ছাড়ছেন না বাংলাদেশের অধিনায়ক। প্রতিপক্ষকে কঠিন সময় উপহার দেওয়া আর ভবিষ্যতে আবার তাদের আমন্ত্রণ আদায় করে নেওয়ার  প্রত্যয় ব্যক্ত করে শান্ত আরও বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে যেটি নির্বাচকরাও বলেছেন, কীভাবে আমরা সেখানে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং সেই সম্মানটা অর্জন করতে পারি। আমার মনে হয়, সেখানে যদি আমরা প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলতে পারি, তারা ভবিষ্যতে আমাদের আবার ইনভাইট করবে। প্রতিটা ম্যাচই আমরা জেতার জন্য খেলি। সবাই সেটা করে। সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তবে আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং কতটা টাফ টাইম দিতে পারি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে গড়াবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দলে চোটের মিছিল আর জিম্বাবুয়ে সফরের দুঃস্মৃতি ভুলে লাল বলের এই কঠিন লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ দল কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং শান্তর ভাষায় নিজেদের সেই কাঙ্ক্ষিত সমীহ আদায় করতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।