বাংলাদেশ সিরিজে নতুন শুরুর অপেক্ষায় হ্যাজলউড

দারুণ সব পেসারদের ভিড়ে অস্ট্রেলিয়ার একাদশ সাজানো দলটির টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য এক মধুর সমস্যা এবং এটি নতুন কিছু নয়। আসন্ন বাংলাদেশ সিরিজকে সামনে রেখে একই প্রসঙ্গে এই পেস বোলিং গভীরতা ও একাদশের প্রতিযোগিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও, সতীর্থ স্কট বোল্যান্ডের সঙ্গে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়াতে চান না অভিজ্ঞ পেসার জশ হ্যাজলউড। বরং বোল্যান্ডের সঙ্গে জুটি বেঁধে একসঙ্গে মাঠে নামার তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ইনজুরির দীর্ঘ লড়াই পেরিয়ে প্রায় এক বছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে নিজের বহুকাঙ্ক্ষিত কামব্যাক করতে মুখিয়ে আছেন অজিদের এই গতি তারকা।

ইনজুরির ধাক্কায় ক্যারিয়ারের শেষ ১৪ টেস্টের ৮টিতেই মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে ৩৫ বছর বয়সী এই পেসারকে। হ্যামস্ট্রিং ও কাফ ইনজুরির কারণে গত বছরের জুলাইয়ের পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের বাইরে রয়েছেন হ্যাজলউড; মিস করেছিলেন অ্যাশেজ সিরিজও। দীর্ঘ প্রায় এক বছর বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্ট দিয়ে ২২ গজে নিজের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন ঘটতে চলেছে তার।

অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণে প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্কের সঙ্গে হ্যাজলউড ও বোল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি একাদশ নির্বাচনকে কঠিন করে তুলেছে। তবে ব্রিসবেনে ক্যাম্প চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হ্যাজলউড স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বোল্যান্ডের সঙ্গে লড়াইতে নামার চেয়ে তাকে সঙ্গী করেই বোলিং আক্রমণ সাজাতে পছন্দ করবেন তিনি। বোল্যান্ডের প্রশংসা করে হ্যাজলউড বলেন, ‘আমি স্কটের (বোল্যান্ড) সঙ্গে আরও বেশি ম্যাচ খেলতে পছন্দ করব। আমাদের বোলিং শৈলীতে সামান্য মিল থাকলেও বেশ কিছু পার্থক্যও রয়েছে। সে যখনই সুযোগ পেয়েছে, অবিশ্বাস্য ভালো করেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে যেন আরও ধারালো হয়ে উঠছে।’

আগামী আগস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে স্পিনারের প্রয়োজনীয়তা এবং নাথান লায়নের দলে ফেরায় একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে চ্যালেঞ্জ থাকলেও হ্যাজলউড আশাবাদী। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ২০ থেকে ২১টি টেস্ট খেলার দীর্ঘ সূচি থাকায় পেস আক্রমণকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করা হবে বলেই বিশ্বাস তার। এছাড়া আইপিএলের পর হোয়াইট বলের সিরিজ থেকে বিশ্রাম দিয়ে তার ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নতুন করে সাজিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে হ্যাজলউড বলেন, ‘আমার মনে হয় এই প্রথম আমরা কোনো টেস্ট সিরিজ খেলতে নামছি, যার আগে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ বা ক্রিকেট খেলতে হয়নি। মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার মূলত অনুশীলনের বড় সেশনগুলো হয়েছে। অতীতে টেস্ট সিরিজের আগে টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও নানা ভ্রমণ থাকত, ফলে বোলিং অনুশীলনগুলো ঠিকঠাক মেইনটেইন করা কঠিন হতো। এবারের প্রস্তুতিটা মূলত টেস্ট ক্রিকেটের একটা ম্যাচের দিন বা ব্যাক-টু-ব্যাক দিনে একাধিক স্পেল বোলিং করার অভিজ্ঞতাকে নিখুঁতভাবে অনুকরণ করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।’ 

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি আর বলেন, ‘আমি মনে করি খেলাধুলায় যখনই আপনি খুব বেশি সামনে তাকাতে যাবেন, তখনই সেটা আপনার জন্য বুমেরাং (হিতে বিপরীত হওয়া) হতে পারে। আমি সবসময় এভাবেই চলেছি।’

ইনজুরির ধকল সামলে এখনই খুব বেশি দূরে তাকাতে নারাজ হ্যাজলউড। আপাতত বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট এবং ফিটনেসের প্রতিটি ধাপ পার হওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য। তবে আগামী ১২ মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত এবং ইংল্যান্ডের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজ জয়ের হাতছানি গোটা দলকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে বলে জানান এই পেসার।

সবমিলিয়ে, বোল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগী নয় বরং সহযাত্রী হওয়ার বার্তা দিয়ে এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামতে প্রস্তুত অস্ট্রেলিয়ার এই পেস সেনসেশন।