রাশিয়া বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির কথা তুলে ধরে মিত্র দেশগুলোর প্রতি আরও সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া এক রাতে ৭০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ২৮০টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কিয়েভ এবং পোল্যান্ড সীমান্তবর্তী পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভ ছিল হামলার প্রধান লক্ষ্য।
হামলার সময় নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য দেশ পোল্যান্ড যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, একটি রুশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডের আকাশসীমা অতিক্রম করেছে। বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পর দেশটির কর্তৃপক্ষ একটি মাঠে গর্ত এবং ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে।
জেলেনস্কি বলেন, 'এ পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন এবং সবাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন।' তিনি ধ্বংসস্তূপ, অগ্নিকাণ্ড এবং উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতার ছবিও প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ না হওয়া বা সরবরাহে বিলম্বের মধ্যেও ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলোর অসাধারণ দক্ষতার কারণেই আরও বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দাবি, তারা ৫৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৬৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে রাশিয়ার নিক্ষেপ করা নয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৭টি ড্রোন দেশের ২০টি স্থানে আঘাত হেনেছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ইউক্রেনের হাতে থাকা একমাত্র অস্ত্র, যা রাশিয়ার অতিদ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম। তবে বিশ্বব্যাপী এ ব্যবস্থার সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত।
দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের একটি গ্রামে শুক্রবার শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে তিন শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া রাজধানী কিয়েভে একজন এবং মধ্য ইউক্রেনের পোলতাভা অঞ্চলে আরও একজন নিহত হয়েছেন।
কিয়েভে টানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল। এ সময় হাজারো মানুষ নিরাপত্তার জন্য মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।