মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর নগরী দামিয়েত্তায় গ্যাসবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির শেষ নিরাপদ রুট হিসেবেও সুয়েজ খালকে বিবেচনা করা হয়। সূত্র রয়টার্স।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মিসরের মন্ত্রিসভা জানায়, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বুধবার দামিয়েত্তা বন্দরে দুটি জাহাজে আগুন লাগার পেছনে একটি অজ্ঞাত ড্রোন দায়ী। বন্দরটি সুয়েজ খালের কাছে অবস্থিত, যা ভূমধ্যসাগরকে লোহিত সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
এ হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। মিসরের মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সূত্রগুলোর দাবি, ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন গ্যাস সংরক্ষণকারী ট্যাংকার এনারগোস উইন্টার-এ আঘাত হানে। এতে আগুন ছড়িয়ে পাশের আরেকটি জাহাজেও বিস্তার লাভ করে।
এদিকে রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, ইরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর পর তারা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং ড্রোন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে খুজেস্তান প্রদেশের গভর্নর জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ শহরের দুটি ছাত্রাবাস কমপ্লেক্সও রাতের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর জবাবে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত আজরাক সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বাহিনীটি বলেছে, 'আল্লাহর সহায়তায় আগ্রাসীদের আজই শাস্তি দেওয়া হবে।'
তবে আজরাক ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
এদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের আরেকটি হামলায় উত্তর কুয়েতে একটি চীনা কোম্পানির মালিকানাধীন ভবনে আঘাত হানে। এতে একজন কর্মী নিহত হন এবং ভবনটির উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়।