যাদের জন্ম থেকেই হাত নেই, কিংবা দুই চোখে আলোর ছোঁয়া নেই তারা কেউ সমাজের বোঝা নন, বরং অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক। পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর পাস করা অদম্য তরুণী ও দৃষ্টিহীন তরুণের জীবনযুদ্ধে যুক্ত হয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে এই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিনের কর্মসূচি শুরু হয় তিন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের হাতে এই নিয়োগপত্র তুলে দেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত তিনজন হলেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আয়শা আক্তার, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নীলা খাতুন এবং নড়াইল সদর উপজেলার মো. হাসমত আলী। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা। দিনটি শুধু তাদের নতুন কর্মজীবনের সূচনা নয়, বরং স্বপ্নেরও বাস্তবায়ন।
আয়শা আক্তার ও নীলা খাতুন দুজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকা নীলা খাতুন পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তাকে রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আয়শা আক্তারও পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তাকে গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো. হাসমত আলীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে।
নিয়োগপত্র প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব।
এদিকে প্রতিবন্ধী তিন ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।