ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ কী? কেন এত আলোচনা-সমালোচনা

গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহার নিয়ে একটি চুক্তি হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, তার উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ এ সমঝোতায় পৌঁছেছে।

ট্রাম্প জানান, চুক্তিটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম যত এগোবে, গাজা থেকে ততই ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। তিনি এ সমঝোতাকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন। তবে হামাস জানিয়েছে, চুক্তি বাস্তবায়নের আগে ইসরায়েলের সম্মতি প্রয়োজন। অন্যদিকে, ইসরায়েলও পরিকল্পনাটি নিয়ে এখনো সংশয় প্রকাশ করেছে।

কী এই বোর্ড অব পিস

গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পরে তিনি জানান, শুধু গাজা নয়, বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলেও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবে এ বোর্ড। এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি নিজেই।

বোর্ডের সনদ অনুযায়ী, সাধারণ সদস্য রাষ্ট্রের মেয়াদ হবে তিন বছর। তবে যে দেশ এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে, তারা স্থায়ী সদস্য হওয়ার সুযোগ পাবে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের নাম ঘোষণা করা হয়।

কারা যোগ দিয়েছে

বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সৌদি আরব, মিসর, কাতার, জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত, মরক্কো, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়াসহ ২৫টির বেশি দেশ যুক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নরওয়ে, সুইডেন, ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো, চীন ও রাশিয়া এ উদ্যোগে যোগ দেয়নি। ভ্যাটিকানও জানিয়েছে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলার দায়িত্ব জাতিসংঘের হাতেই থাকা উচিত।

বোর্ডের ক্ষমতা

গত নভেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়, যেখানে গাজার পুনর্গঠনের জন্য বোর্ডটিকে একটি অস্থায়ী সমন্বয়কারী কাঠামো হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ২০২৭ সাল পর্যন্ত গাজায় একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বোর্ডকে প্রতি ছয় মাস অন্তর নিরাপত্তা পরিষদে অগ্রগতি প্রতিবেদনও জমা দিতে হবে। তবে গাজার বাইরে এ বোর্ডের আইনি ক্ষমতা বা কার্যকারিতা কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কেন বিতর্ক

বোর্ডটিকে ঘিরে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে কাজ করলেও বোর্ডে কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি নেই। এছাড়া ট্রাম্পের হাতে ব্যাপক নির্বাহী ক্ষমতা, টনি ব্লেয়ারের অন্তর্ভুক্তি এবং মানবাধিকার ইস্যুতে সমালোচিত কয়েকটি দেশের সদস্যপদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগ জাতিসংঘের ভূমিকা খর্ব করতে পারে এবং বিদেশি একটি ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে ট্রাম্পের সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভেঙে নতুন ধরনের শান্তি উদ্যোগ হিসেবে বোর্ডটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স