আজ মসজিদে হারামের জুমার খুতবায় শায়খ ড. ইয়াসির আদ-দাওসারি মুসল্লিদের তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আল্লাহ মানুষকে দৃষ্টিশক্তি দিয়েছেন সত্যকে চিনতে, সঠিক পথ খুঁজে পেতে এবং তার নিদর্শন উপলব্ধি করতে। তাই এই নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করতে হলে চোখকে হারাম থেকে সংযত রাখতে হবে এবং কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করতে হবে।
তিনি এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের মাতৃগর্ভ থেকে বের করেছেন, তখন তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদের শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তর দান করেছেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’ (সুরা নাহল ৭৮)
শায়খ দাওসারি বলেন, দৃষ্টিকে সংযত রাখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। এটি হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে এবং মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে গুনাহ থেকে রক্ষা করে। পক্ষান্তরে হারাম বিষয়ের দিকে অবাধ দৃষ্টি মানুষকে প্রবৃত্তির দাসে পরিণত করে এবং তাকে গাফিলতির পথে ঠেলে দেয়।
তিনি বলেন, ইসলাম শুধু অশ্লীলতা ও ব্যভিচার নিষিদ্ধই করেনি, বরং সেসব গুনাহের দিকে নিয়ে যায় এমন সব উপায়ও নিষিদ্ধ করেছে। সে কারণেই আল্লাহ প্রথমে মুমিন পুরুষদের দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, এরপর লজ্জাস্থান হেফাজতের কথা বলেছেন। একই নির্দেশ দিয়েছেন মুমিন নারীদেরও।
শায়খ দাওসারি বলেন, নিষিদ্ধ দৃষ্টি হৃদয়ের জন্য বিষাক্ত তিরের মতো। এটি ইমানের আলোকে ম্লান করে দেয় এবং মানুষকে কামনার বন্দি বানিয়ে ফেলে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় মুসলমানদের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এমন সব মাধ্যম ও পরিবেশ থেকে দূরে থাকতে হবে, যা মানুষকে ফেতনা ও গুনাহের দিকে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, দৃষ্টিকে সংযত রাখলে অন্তরে প্রশান্তি আসে, ইমানের মাধুর্য অনুভূত হয়, ইবাদতে মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের বিবেচনাশক্তি ও দূরদৃষ্টি শক্তিশালী হয়। বিপরীতে অবাধ দৃষ্টি চিন্তাকে বিক্ষিপ্ত করে, আত্মসংযম দুর্বল করে এবং মানুষকে এমন বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট করে, যার কোনো প্রকৃত উপকার নেই।
খুতবার দ্বিতীয় অংশে শায়খ ড. ইয়াসির আদ-দাওসারি মুসল্লিদের আল্লাহভীতি অর্জন, বেশি বেশি দোয়া করা এবং নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করে, আল্লাহ তাকে তার চেয়ে উত্তম প্রতিদান দান করেন।
তিনি আরও বলেন, দৃষ্টিকে সংযত রাখার অন্যতম উপায় হলো সন্দেহজনক পরিবেশ, ফেতনার স্থান এবং অসৎ সঙ্গ থেকে দূরে থাকা। দৃষ্টি সংযত রাখা মানুষের দ্বীন, মর্যাদা ও আত্মসম্মান রক্ষার অন্যতম মাধ্যম।
খুতবার শেষাংশে তিনি প্রকাশ্য ও গোপনে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করার আহ্বান জানিয়ে কোরআনের এ আয়াত তেলাওয়াত করেন, ‘নিশ্চয়ই কান, চোখ ও হৃদয়, এসবের প্রত্যেকটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (সুরা ইসরা ৩৬)