প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ‘ছবি’ ভাইরাল, মুখ খুললেন মারিয়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর সঙ্গে নিজের ছবি জুড়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার ও চরিত্রহননের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পঞ্চগড়ের তরুণী রাহেমীন মারিয়া এলিন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রাহেমীন মারিয়া এলিন জানান, তিনি পঞ্চগড়ের মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের বিএসএস শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘মারিয়া সরকার’ নামে পরিচিত। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে একটি সামাজিক সংগঠনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময়, তৎকালীন নির্বাচনের পাঁচ-ছয় মাস আগে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে একটি রেস্টুরেন্টে ছবি তুলেছিলেন।

তার দাবি, সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অশ্লীল ভিডিওর সঙ্গে ওই পুরোনো ছবি যুক্ত করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্টে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে এলিন বলেন, ভাইরাল ভিডিওতে থাকা নারী তিনি নন। তবু তার ছবি ব্যবহার করে ভুল পরিচয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তিনি বলেন, উপস্থাপনার কাজের সূত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় ও ছবি রয়েছে। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। কয়েক দিন আগে ব্যক্তিগতভাবে একটি পুরোনো ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করলেও পরে ভুল ব্যাখ্যার আশঙ্কায় সেটি মুছে ফেলেন। তার অভিযোগ, কেউ ছবিটি সংরক্ষণ করে পরে অপপ্রচারে ব্যবহার করেছে।

এলিন আরও অভিযোগ করেন, তাকে হিন্দু তরুণী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, তার বাবা-মা দুজনই মারা গেছেন। অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া ও নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন। এ ধরনের অপপ্রচারে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে তিনি বলেন, এর সত্যতা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে। তার ধারণা, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি হতে পারে অথবা অন্য কোনো ঘটনার ভিডিও হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে।

অপপ্রচারে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং তার সম্মানহানির বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান রাহেমীন মারিয়া এলিন।