ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় মুদি দোকানের বেঞ্চে রেখে যাওয়া একটি ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেটি নিষ্ক্রিয় করে। গতকাল শুক্রবার সকালে আশুলিয়া ইউনিয়নে ইউনাইটেড গার্মেন্টস-সংলগ্ন একটি ফাঁকা প্লটে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকার জনৈক হৃদয় চাকমার মালিকানাধীন মুদি দোকানের সামনে বেঞ্চের ওপর পরিত্যক্ত ব্যাগ দেখতে পায় স্থানীয়রা। দীর্ঘ সময় ব্যাগটি পড়ে থাকতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে ব্যাগটি খুলে ভেতরে প্রেশার কুকার আকৃতির একটি বোমাসদৃশ বস্তু দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে রাত ৯টার দিকে পুলিশে খবর দেয়।’
আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং প্রাথমিকভাবে বস্তুটি বিস্ফোরক হতে পারে বলে নিশ্চিত হয়। পরে বিষয়টি ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে জানানো হয়। তারা ঘটনাস্থলে এসে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে বস্তুটি উদ্ধার করে বলে জানান ওসি।
আশুলিয়া থানা পুলিশ জানায়, সন্ধ্যায় একটি মুদি দোকানে মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি কোমল পানীয় কিনতে আসেন। দাম পরিশোধের জন্য তিনি দোকানদারকে ২০০ টাকার একটি নোট দেন। দোকানদারের কাছে ভাঙতি না থাকায় তিনি পাশের দোকানে টাকা ভাঙাতে যান। ফিরে এসে দেখেন, ওই ব্যক্তি চলে গেছেন। তবে তার সঙ্গে থাকা একটি তালাবদ্ধ ভ্রমণব্যাগ দোকানেই পড়ে আছে।’
ওসি জানান, ‘বোমাটি যিনি রেখেছেন, তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আশপাশের এলাকার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণের কাজ চলছে।’
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ জুলাই রাতে রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে ‘পাইপ বোমা’ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় মামলার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মোহাম্মদ শামসুল হক বলেছিলেন, একটি ছাতার সঙ্গে বোমাটি এমনভাবে লাগানো ছিল যে, ছাতাটি ফোটালেই বিস্ফোরণ হতো। তাতে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।