বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সম্মেলনে মেধাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়করণ বন্ধ, ভিন্নমতের চর্চা এবং রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মুজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ও প্রশাসনে দলীয় প্রভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হয়েছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগের সংস্কৃতি উচ্চশিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হলে দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে এবং ভিন্নমত প্রকাশের অবাধ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা শুধু শিক্ষার্থী তৈরি করেন না, তারা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের কারিগর। তাই শিক্ষা, কর্মসংস্থান, জাতীয় উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রণয়নে শিক্ষকদের নেতৃত্ব দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে রাজনীতির প্রতি বিরক্তি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ বলেন, শিক্ষকরা কেবল পাঠদান করেন না, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলেন। তিনি ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইউটিএল উচ্চশিক্ষার গুণগত উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, ভিন্নমতকে ধারণ করার সক্ষমতার ওপরই ইউটিএলের সাফল্য নির্ভর করবে। সংগঠনটি যেন ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম না হয়ে উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে— এ আহ্বান জানান তিনি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. হায়দার আলী বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তাই শিক্ষার্থীদের বইনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবহারিক শিক্ষার ওপরও জোর দেন তিনি।
ইউটিএলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, সাবেক সিনিয়র সচিব ড. খ. ম. কবিরুল ইসলাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মো. শামসুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশিষ্টজনেরা।