যুক্তরাষ্ট্রে ৩ মাসে মসজিদে হামলা বেড়েছে ১৮৩ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে হামলা, ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। 

আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির মুসলিম নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস’ (সিএআইআর) জানিয়েছে, চলতি বছরের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে মসজিদ ও অন্যান্য ইসলামি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ঘটনার সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে সংগঠনটি।

ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে মুসলমানদের প্রতিবাদ। ছবি: সংগৃহীত

সংগঠনটি জানায়, চলতি বছরের মে, জুন ও জুলাই মাসে ইসলামি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ১৭টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা ছিল মাত্র ৬টি।

এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, সহিংসতার হুমকি, অগ্নিসংযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে মসজিদ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা।

সংগঠনটির গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি বিভাগের পরিচালক কোরি সাইলর বলেন,

যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ এখনো ঘৃণার একটি গ্রহণযোগ্য রূপ হিসেবে রয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছড়ানো ও সহিংসতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে মুসলিমদের উপাসনালয়। মসজিদগুলো যেন নিরাপদে ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও সামাজিক সংযোগের কেন্দ্র হিসেবে টিকে থাকে, তা নিশ্চিত করা কমিউনিটি নেতাদের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কোনো বড় ধরনের ঘটনার পরবর্তী তিন মাসে ঘৃণাজনিত অপরাধ বেড়েছে কিনা, তা বিশ্লেষণ করে থাকেন গবেষকরা। সেই প্রেক্ষাপটেই সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো মূল্যায়ন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে গত ১৮ মে ক্যালিফোর্নিয়ার ইসলামিক সেন্টার অব সান দিয়েগোতে সংঘটিত হামলার ঘটনাকে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় মুসলিমবিদ্বেষী শ্বেতাঙ্গ উগ্রপন্থীদের আক্রমণ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে গিয়ে আমিন আবদুল্লাহ, মানসুর কাজিহা ও নাদির আওয়াদ প্রাণ হারান।

সিএআইআর আরো জানায়, ২০২৫ সালে মসজিদ, ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার এবং মুসলিম উপাসনালয় হিসেবে পরিচিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ৩৩টি লক্ষ্যভিত্তিক ঘটনার তথ্য তারা শনাক্ত করেছে। এসব তথ্য কেবল প্রকাশ্যে পাওয়া নির্ভরযোগ্য উৎস যেমন মূলধারার সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে গত মে মাসে সিএআইআরের নিউ জার্সি শাখা জানায়, অঙ্গরাজ্যের অন্তত চারটি মসজিদে হুমকিমূলক ফোনকল, বিদ্বেষমূলক চিঠি এবং শারীরিক ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো আরো ছয়টি মসজিদে একই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক হয়রানির তথ্য সিএআইআরকে জানিয়েছে।

এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মুসলিম কমিউনিটির নেতাদের জন্য হালনাগাদ ‘বেস্ট প্র্যাকটিসেস ফর মসক অ্যান্ড কমিউনিটি সেফটি গাইড’ প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে সিএআইআর। উত্তর আমেরিকান ইসলামিক ট্রাস্টের সহযোগিতায় চলতি আগস্টের শেষ দিকে এ নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।