বিদ্যুৎ বিলে ছাড় চান হিমাগার মালিকরা

বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের সুদ, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ ও মূল্যস্ফীতির কারণে হিমাগারের সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় হিমাগার পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন। সমাধানে পোল্ট্রি ফার্ম, প্রাণী খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, বিএডিসিরমতো এ খাতে বিদ্যুৎ বিলের উপর ২০ শতাংশ হারে প্রণোদনার দাবি করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে হিমাগারের ভাড়া পুনঃনির্ধারণের দাবি করেছেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

গতকাল শনিবার সংগঠনটির পল্টন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করা হয়েছে। এতে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী। এতে সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আলুচাষি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ারও দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৫ সালে সরকার প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের সর্বোচ্চ ভাড়া ৬ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করে দিয়েছে। পরে ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে হিমাগার শিল্পে ব্যবহৃত বিদ্যুতের মূল্য ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, অ্যামোনিয়া গ্যাস, লুব্রিকেন্ট, যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বেড়েছে। কিন্তু এসব ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া সমন্বয় করা হয়নি। সেই ভাড়া অপরিবর্তিত থাকায় অধিকাংশ হিমাগার লোকসানের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনেক হিমাগার পরিচালনা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, একটি ১০ হাজার টন ধারণক্ষমতার হিমাগারে ব্যাংক ঋণের সুদ ও কিস্তি এবং বিদ্যুৎ ব্যয় মিলিয়ে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণে খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৭ টাকা ১১ পয়সা। এর সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, অ্যামোনিয়া গ্যাস, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, লুব্রিকেন্টসহ অন্য পরিচালন ব্যয় যোগ করলে প্রকৃত ব্যয় দাঁড়ায় প্রতি কেজিতে প্রায় ৯ টাকা ৬২ পয়সা। অথচ সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৬ টাকা ৭৫ পয়সা হওয়ায় অধিকাংশ হিমাগার লোকসান গুনছে।

সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, ২০২৫ সালে দেশে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়, যা দেশের চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ লাখ টন বেশি। ওই বছর দেশের ৩৫১টি হিমাগারে প্রায় ৩৪ লাখ টন আলু সংরক্ষণ করা হয়। তবে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে অনেক কৃষক ন্যায্যমূল্য পাননি এবং উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হন। চলতি বছরও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। 

অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে, যা দেশের চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ টন বেশি। এ বছরও ৩৫১টি হিমাগারে প্রায় ৩৪ লাখ টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়ার দাবি করছি।

সংগঠনটি জানায়, তারা কৃষি মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার ভাড়া পুনর্নির্ধারণের আবেদন করেছে। এমনকি একটি কারিগরি কমিটিও বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিয়েছে। তবুও এখন পর্যন্ত সরকার নতুন ভাড়া নির্ধারণ করেনি।

এ অবস্থায় সরকারের কাছে ছয়টি দাবি তুলে ধরেছে সংগঠনটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত আলুচাষিদের জন্য প্রণোদনা, ব্যক্তিমালিকানাধীন হিমাগারকে কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে বিশেষ সুবিধা প্রদান, বিদ্যুৎ বিলের ওপর প্রণোদনা, কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা, আলু রপ্তানিতে বিদ্যমান ১০ শতাংশের পরিবর্তে ৩০ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি করেন তারা।