জীবন দিয়ে জুলাই শহীদদের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করব

ডাকসু ভিপি মোহাম্মদ আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, প্রয়োজনে আমরা জীবন দেব তবুও জুলাই শহীদদের আকাক্সক্ষার নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দাবি থেকে পিছিয়ে যাব না। ইসলামী ছাত্রশিবির ডাকুসর নেতৃত্বে আসার পর অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। আগামী দিনে নগরবাসী দায়িত্ব দিলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) থেকে অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করব।

গতকাল শনিবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত গণমিছিল শেষে পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। আসন্ন ডিএসসিসি নির্বাচনে সাদিক কায়েম জামায়াতের প্রার্থী হচ্ছেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেনি দলটি। এর আগে জামায়াতের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও এবারই প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন সাদিক কায়েম।

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী’ উপলক্ষে এ গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর, চট্টগ্রাম মহানগরীসহ সারা দেশে গণমিছিল করে দলটির নেতাকর্মীরা। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মিছিলটি বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইট থেকে শুরু হয়ে পল্টন-জাতীয় প্রেস ক্লাব-হাইকোর্ট চত্বর হয়ে মৎস্য ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। দলটির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, জয়নুল আবেদীন এমপি, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের মূল কথাই হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতের মূল্যায়ন ও সম্মান করা। কিন্তু বর্তমান সরকারের কর্মকান্ডে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে নির্বাচন ও গণভোটের মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে জনগণের রায়কে তোয়াক্কা না করার একটি প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী জনগণের এই ভোট ও রায়কে সম্মান না জানাবে, ততদিন পর্যন্ত তাদের গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে জামায়াতে ইসলামী সর্বদা আপসহীন।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেশি সময় ক্ষেপণ না করে অনতিবিলম্বে জনগণের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের যে শপথ, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। যদি সংসদের ভেতরে ও বাইরে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা না হয়, তবে দেশজুড়ে আবারও তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ভুল বুঝিয়ে বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দিকে নেওয়া হচ্ছে : মিয়া গোলাম পরওয়ার

প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে কিছু লোক বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সংস্কার বাস্তবায়নই ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানোর একমাত্র পথ।

গতকাল বিকেলে রাজধানীর মহাখালীতে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত আয়োজিত গণমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে থেকে গণমিছিলটি তেজগাঁও তিব্বত মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজামান, মুফতি আলী হাসান উসামা, ড. ফয়জুল হক, মহানগর উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সুবিধাভোগী হলেও বিএনপি এখন সেই অভ্যুত্থানের চেতনা থেকে সরে এসেছে। নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তারা তা ভুলে গেছে। তিনি দাবি করেন, জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল। তবে বর্তমানে সেই অঙ্গীকার থেকে তারা সরে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, কেবল আইনের আংশিক সংশোধন নয়, গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন। এ সংস্কার বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রক্ষমতা এককভাবে কোনো সরকারের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকবে না।

বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আইন সংশোধনের মাধ্যমে ‘রিফর্ম আওয়ামী লীগ’ নামে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীনরা জুলাইয়ের চেতনাকে ভুলে গেছে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয় লোকজন নিয়োগ দিচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সত্য কথা বলার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। পাঁচ মাসেও কাক্সিক্ষত কোনো পরিবর্তন হয়নি। জামায়াত কখনো গুপ্ত ছিল না। যারা বিভিন্ন আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততার কথা বলেন, তাদের বক্তব্য জনগণ বিবেচনা করবে।

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি : হামিদুর রহমান আজাদ

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেছেন, শহীদদের রক্তের সঙ্গে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হলে দেশব্যাপী আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জুলাইয়ের গণহত্যাসহ সব হত্যাকান্ডের বিচার এবং গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে গতকাল শনিবার নগরীর বহদ্দারহাট মোড়ে দলটির চট্টগ্রাম মহানগরী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, মহানগর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, মহানগর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়রপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তের পিতা জাকির হোসাইন প্রমুখ।

হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশের মানুষ নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু আজও জনগণ দারিদ্র্যমুক্ত, বৈষম্যহীন ও সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্র পায়নি। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই রাজপথে নেমেছিল। সেই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে দেশের প্রতিটি বিভাগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং সবার একটাই দাবি, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।

এদিকে আমাদের গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জুলাই হত্যাকা-ের বিচার, শহীদ ওসমান বিন হাদী হত্যার বিচার এবং জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে গাইবান্ধায় গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল গাইবান্ধা পৌর পার্ক শহীদ মিনার চত্বরে দলটির জেলা শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত জেলা সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামানের সঞ্চালনায় এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা আমির ও গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ, গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান প্রমুখ।