কুড়িগ্রামে পচা সুপারিতে ভাগ্যবদল

কুড়িগ্রামে একসময় গাছ থেকে ঝরে পড়ে পচে যাওয়া সুপারি ফেলে দেওয়া হতো। এখন সেই পচা সুপারিই হয়ে উঠেছে বাড়তি আয়ের উৎস। শুকিয়ে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা, আর তা কিনে প্রক্রিয়াজাত করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন ব্যবসায়ীরা। এ ব্যবসাকে ঘিরে কর্মসংস্থান হয়েছে অসংখ্য নারী-পুরুষের।

সরেজমিনে, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার দিনোবাজারে গিয়ে দেখা যায়, হকাররা বস্তাভর্তি শুকনো পচা সুপারি নিয়ে বাজারে আসছেন। ব্যবসায়ীরা এসব সুপারি কিনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠাচ্ছেন। বাজারজুড়ে চলছে কেনাবেচার ব্যস্ততা। ব্যবসায়ীরা জানান, কুড়িগ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হকাররা শুকনো পচা সুপারি সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসেন। পরে সেগুলো বাছাই ও পরিষ্কার করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি বিক্রি করা হয়। প্রতি মাসে প্রায় ৩০ টন পচা সুপারি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। এসব সুপারি মূলত রঙ তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে জানান তারা। সুপারি ব্যবসায়ী নয়ন বলেন, আমাদের কিছু হকার রয়েছে। তারা গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে শুকানো পচা সুপারি সংগ্রহ করে আমাদের কাছে নিয়ে আসেন। আমরা মানভেদে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ১০০ টাকায় কিনে থাকি। পরে সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পাইকারি বিক্রি করি। এই ব্যবসার কারণে এলাকায় অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, পচা সুপারিকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই বাণিজ্য একদিকে যেমন কৃষকদের ক্ষতি কমাচ্ছে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি এনে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে।

শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, এ কাজে আয় করছেন স্থানীয় নারীরাও। দীর্ঘদিন সুপারি পরিষ্কারের কাজ করা জরিনা বেওয়া বলেন, এক কেজি সুপারি পরিষ্কার করলে ১০ টাকা মজুরি পাই। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়। এই কাজ দিয়ে সংসারের খরচ চালাই। কৃষকরা বলছেন, আগে গাছ থেকে ঝরে পড়ে পচে যাওয়া সুপারি কোনো কাজে লাগত না। এখন সেগুলো সংগ্রহ করে শুকিয়ে বিক্রি করায় অতিরিক্ত আয় হচ্ছে। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ১ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে সুপারির বাগান রয়েছে। জেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল সুপারি।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভালো সুপারির পাশাপাশি গাছ থেকে ঝরে পড়া পচা সুপারিও এখন কৃষকদের জন্য আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আগে যেগুলো নষ্ট হয়ে যেত, এখন সেগুলো বিক্রি করে কৃষকরা বাড়তি আয় করছেন। একই সঙ্গে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী, হকার ও শ্রমিকরাও লাভবান হচ্ছেন।