৮৬ রানেই ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন গায়ানা

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফাইনালে ৮৬ রানের লক্ষ্য দাঁড় করিয়েও ম্যাচ জেতা সম্ভব? এ যেন হার মানিয়েছে রূপকথাকেও। গ্লোবাল সুপার লিগ (জিএসএল) ২০২৬-এর ফাইনালে ঠিক এমনই এক অবিশ্বাস্য ঘটনার জন্ম দিল গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের বিপক্ষে মাত্র ৮৫ রানের পুঁজি নিয়েও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৬ রানে জয় তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে ক্যারিবীয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনাল ইতিহাসে এর চেয়ে কম রান ডিফেন্ড করে জয়ের কোনো রেকর্ড নেই।

গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় গায়ানা। তবে পিচের চেনা রূপ আর প্রতিপক্ষ বোলারদের তোপে ব্যাটিং বিপর্যয় কাকে বলে, তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে তারা। কেবল ৬.২ ওভারের মধ্যেই দলের শীর্ষ পাঁচ ব্যাটার সাজঘরে ফিরে যান, বোর্ডে রান তখন মোটে ২৫!

পিটার সিডল ও তরুণ লেগস্পিনার অনিরুদ্ধ ইমানুয়েলের বোলিং তোপে একপর্যায়ে ২৯ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে ত্রিশের নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল গায়ানার সামনে। সেখান থেকে নবম উইকেটে দলের ত্রাতা হয়ে আসেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ও ম্যাথিউ ফোর্ড। এই জুটি যোগ করেন মূল্যবান ৪১ রান। দশ নম্বর ব্যাটার ফোর্ড ২৩ বলে সর্বোচ্চ ২৮ রান করে দলকে সম্মানজনক ৮৫ রানে পৌঁছে দেন। প্রিটোরিয়াস এর ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান।

সহজ লক্ষ্যের রান তাড়ায় সান ফ্রান্সিসকো শুরুটা কিছুটা সামলে দিলেও গায়ানার পেসার ও স্পিনারদের সম্মিলিত আক্রমণে খেই হারিয়ে ফেলে। প্রিটোরিয়াসের জোড়া আঘাত আর গুদাকেশ মোটির ঘূর্ণিতে পাওয়ারপ্লের আগেই চাপে পড়ে যায় দলটি। একপ্রান্তে অলিভার পিক দারুণ এক ইনিংসে দলের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন (২৮ বলে ৩১)। তবে সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তির মন্থর ব্যাটিং (২৪ বলে ৯) এবং মোহাম্মদ নবী ও ইমরান তাহিরের কাসুন্দি ভাঙা স্পিন বোলিংয়ে ম্যাচ সম্পূর্ণ ঘুরে যায়। নবী ও তাহিরদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে ইউনিকর্নসের মিডল অর্ডার হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে।

শেষ পর্যন্ত নাটকীয়তার চরম পর্যায়ে গিয়ে শেষ উইকেটের লড়াইয়ে গড়ায় ম্যাচ। জয়ের জন্য যখন শেষ ১০ বলে ৭ রান প্রয়োজন, তখন শেষ ব্যাটার ক্যালাম স্টো দ্রুত সিঙ্গেল নিতে গেলে শিমরন হেটমায়ারের দুর্দান্ত থ্রোতে স্টাম্প ভেঙে যায়। রানআউটের এই রোমাঞ্চেই ৭৯ রানে অলআউট হয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয় সান ফ্রান্সিসকোর।

বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও দলের বিপর্যয়ে অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়ে ফাইনালের ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের হাতে। ৫৩ রান ও ১০ উইকেটের সুবাদে টুর্নামেন্ট সেরার খেতাব জেতেন নবী।

ব্যাটে-বলে এই মহানাটকীয় জয়ে গ্লোবাল সুপার লিগে নিজেদের মুকুটে আরও একটি নতুন গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় যোগ করল গায়ানা।