উন্নত জীবনের আশায় অবৈধ উপায়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে স্পেনের সীমান্তবর্তী সিউতা উপদ্বীপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ফিনেদিল ও সিউতার মধ্যকার সামুদ্রিক জলরাশিতে পানির নিচে তলিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি বরণ করতে হলো মরক্কোর উদীয়মান নারী ফুটবলার ফাতেন বেন ওমর এল আজিজিকে। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে কেবল তার পরিবার কিংবা ক্লাবই নয়, পুরো মরোক্কান ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার মরক্কো ও সিউতার সীমান্ত পয়েন্টে হাজারো মানুষের অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের হিড়িকের সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আহ্বান এবং চরম অর্থনৈতিক অনটনের তাগিদেই মূলত ফাতেনের মতো বহু তরুণ সেই উত্তাল সমুদ্রে নেমেছিলেন। কিন্তু সাঁতরে সীমান্ত পার হওয়ার সময় মাঝপথে তীব্র স্রোত ও সংকটে পড়ে যান এই ফুটবলার। শেষ পর্যন্ত তীরে পৌঁছাতে পারেননি এবং উদ্ধার হওয়ার আগেই জলমগ্ন হয়ে মারা যান।
ফাতেন স্থানীয় আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে ফুটবল খেলতেন এবং তার পরিবারও স্থানীয় ফুটবলের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। তার ফুফাতো ভাই আবদেসামাদ এল আজিজি ইত্তিহাদ মার্তিলের মতো আঞ্চলিক ক্লাবে খেলেছেন।
ফাতেনের এই হৃদয়বিদারক প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে তার ক্লাব মাগরেব আতলেতিকো তেতোয়ান এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, ‘ফাতেনের এই স্বপ্ন শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেল। সে কোনো খ্যাতি বা রোমাঞ্চের খোঁজে ছিল না, বরং সীমানার ওপারে সে একটি ভালো জীবন ও উন্নত ভবিষ্যতের প্রত্যাশা করেছিল।’
ক্লাবটি আরও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছে, ‘সিউতা শহরে পৌঁছানোর এই প্রচেষ্টায় সে তার জীবন হারিয়েছে। অবৈধ অভিবাসনের পেছনে তরুণদের এই চড়া মূল্য পরিশোধ করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’
মরক্কোর পেশাদার ফুটবলারদের সংগঠন মরোক্কান ইউনিয়ন অব প্রফেশনাল ফুটবলার্সের (ইউএমএফপি) পক্ষ থেকেও এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি মুস্তফা এল হাদাউইসহ সকল সদস্য এক বিবৃতিতে গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, ‘গভীর শোকের সাথে মরোক্কান ইউনিয়ন অব প্রফেশনাল ফুটবলার্স খেলোয়াড় ফাতেন বেন ওমর এল আজিজির ট্র্যাজিক প্রয়াণে শোক প্রকাশ করছে। শোকসন্তপ্ত এই মুহূর্তে আমরা মরহুমার পরিবার, প্রিয়জন, মাগরেব দে তাঞ্জিয়ার সতীর্থ এবং পুরো মরোক্কান ফুটবল কমিউনিটির প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, মরক্কো ও স্পেনের মধ্যকার এই সাম্প্রতিক সীমান্ত সংকটে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বর্ডার পার হওয়ার চেষ্টা করেছেন। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৬৭ জনের প্রাণহানির রেকর্ড পাওয়া গেছে, যার একটি বড় অংশই ফিনেদিল থেকে সিউতা যাওয়ার পথে সমুদ্রে ডুবে মারা গেছেন। সীমান্ত পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসলেও এখনো বহু পরিবার তাদের নিখোঁজ তরুণ স্বজনদের খোঁজে সীমান্তে ভিড় করছেন, যা এই অভিবাসন সংকটের নির্মম ও করুণ বাস্তবতাই ফুটিয়ে তোলে।