ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার একটি দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে একই নামের এক মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে শিক্ষক পদে নিয়োগও পান। বিষয়টি তদন্তের দাবি তুলে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সুপার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় ১৯৯৪ সালে মো. মহিউদ্দিন নামে একজন জুনিয়র শিক্ষক নিয়োগ পান। ২০২৫ সালে তার মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়। অন্যদিকে, একই নামের আরেক ব্যক্তি মো. মহিউদ্দিন, যিনি তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি, ২০০৬ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ওই মাদরাসায় নিয়োগ পান।
মাদরাসার সুপার মো. নুরুজ্জামান অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন চালু হওয়ার পরও তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ নেওয়া হয়। নামের মিলের সুযোগে মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৭ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এমপিও তালিকায় অভিযুক্তের নামের বিপরীতে মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব নম্বর বহাল ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই ব্যাংক হিসাব নম্বর থাকলেও মৃত শিক্ষকের হিসাব থেকে তিনি কোনো বেতন তোলেননি। নিয়োগের সময়ও কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে সমস্যার সমাধানের কথা বলে মাদরাসার সুপার তার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে তিনি ৩ লাখ টাকা দিলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। টাকা ফেরত চাইতেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেন মহিউদ্দিন।
অন্যদিকে মাদরাসার সুপার মো. নুরুজ্জামান ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি তার নজরে আসে। বিভিন্ন কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে বিলম্ব হলেও বর্তমানে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা শাখার সেক্রেটারি কাজী মাওলানা হারুনুর রশিদ বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনাটিতে মাদরাসা সুপারের ভূমিকা নিয়েও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।