মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানিতে আগ্রহী বাংলাদেশ

মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। সরকারের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মোয়ের সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এ প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন। পাশাপাশি পাইপলাইনের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আলোচনায় মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পুরোনো উদ্যোগও উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এ ধরনের একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই উদ্যোগ পুনরায় বিবেচনা করা যেতে পারে।

বিষয়টি এগিয়ে নিতে দুই দেশের জ্বালানিমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি। একই সঙ্গে মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং প্রয়োজন হলে নিজেও মিয়ানমার সফরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, চীন-মিয়ানমার–বাংলাদেশ করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব এসেছে। এ করিডোর বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক পুনরায় শুরু করে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির বিষয়টি কারিগরি ও বাণিজ্যিক দিক থেকে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।