দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ছাঁটাই হওয়া সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গতকাল রবিবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসইর পুরাতন ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে তারা এ দাবি জানান। এ সময় অনেকে দাবি আদায়ের পক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।
মানববন্ধনে দাবি করা হয়, সম্প্রতি ডিএসই ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছে এবং আরও ১৪০ জনের একটি তালিকা করা হয়েছে। ধাপে ধাপে ওই ১৪০ জনকেও চাকরিচ্যুত করা হতে পারে।
দাবিটি ডিএসইর পক্ষ থেকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করে সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে। গতকাল ডিএসই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো ব্যক্তিগত বিবেচনা বা বৈষম্য আশ্রয় নেওয়া হয়নি। প্রতিটি সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন, কার্যকারিতা ও ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধনে ডিএসইর চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবিলম্বে তাদের চাকরিতে বহালের দাবি জানান। পাশাপাশি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
মানববন্ধনে চাকরিচ্যুত ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক হোসনে আরা পারভীন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার হাত দিয়েই ডিএসইর অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চাকরিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় হঠাৎ করেই তাকে চাকরিচ্যুতির চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে কথা বললে তারা এটিকে ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত বলে জানান। আবার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, এটি পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এটিকে ডিএসইর অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। আমরা এখন কোথায় যাব?
এ বিষয়ে ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান জানান, সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসিতে কিছু কর্মচারীর চাকরির অবসান নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে নানা আলোচনা ও বক্তব্য প্রচারিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে এবং সঠিক তথ্য জনসমক্ষে উপস্থাপনের লক্ষ্যে আমরা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাই।
এটি স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন, যে কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগ যেমন একটি স্বাভাবিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়া, তেমনি প্রয়োজনের ভিত্তিতে কর্মীর চাকরির অবসানও একটি স্বাভাবিক, স্বীকৃত ও আইনসম্মত ব্যবস্থাপনা-প্রক্রিয়া। বিশ্বের প্রায় সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেই ব্যবসায়িক বাস্তবতা, সাংগঠনিক পুনর্গঠন, দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন কিংবা কৌশলগত প্রয়োজনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত সময়ে সময়ে নেওয়া হয়ে থাকে, এবং বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।
ডিএসই দেশের পুঁজিবাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী করে গড়ে তুলতে আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক রূপান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। এটি কোনো হঠাৎ গৃহীত সিদ্ধান্ত নয়, ২০২২ সাল থেকেই প্রতিষ্ঠান এই রূপান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে। সেই দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই কিছু পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং সীমিত সংখ্যক কর্মচারীর চাকরির অবসান ঘটানো হয়েছে। স্পষ্টতার স্বার্থে উল্লেখ করা প্রয়োজন, প্রতিষ্ঠানের মোট ৩৫০ জন কর্মীর মধ্যে মাত্র ১৭ জনের চাকরির অবসান ঘটানো হয়েছে, যা মোট জনবলের ৫ শতাংশেরও কম।
এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো ব্যক্তিগত বিবেচনা বা বৈষম্য আশ্রয় নেওয়া হয়নি। প্রতিটি সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন, কার্যকারিতা ও ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৬ এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বিদ্যমান সার্ভিস রুল অনুযায়ী আইনসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই ধারা নিয়োগকর্তাকে নোটিস প্রদান অথবা নোটিসের পরিবর্তে আইন-নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ প্রদান করে, কোনো কারণ প্রদর্শন ছাড়াই চাকরির অবসান ঘটানোর ক্ষমতা দিয়েছে। এটি শ্রম আইনের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান, যা বহু বছর দেশের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনুসৃত হয়ে আসছে।