মাহদী আমিন

৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, টেকনিক্যাল এবং ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এতে অংশগ্রহণ করবে। সকল ছেলে শিক্ষার্থীর জন্য এটি বাধ্যতামূলক। আর মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ঐচ্ছিক। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়ে তাদের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ। 

সোমবার (৩ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট জাতীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা চাই দেশজুড়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হোক। প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলে এসেছেন, আগামী শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হবে—যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা এবং সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। সে লক্ষ্যেই ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় একযোগে দেশব্যাপী সারা বছরজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।

তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো, সেখানে ন্যায্যতা থাকবে, সমতা থাকবে এবং শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমে আসবে। সেই লক্ষ্যেই এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই। আমাদের বিশ্বাস, এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগামীর নেতৃত্ব দেওয়ার যে গুণাবলি, যে মেধা এবং মননশীলতা রয়েছে, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। আজ সর্বসম্মতিক্রমে এখানে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মন্ত্রণালয় তাদের সহযোগিতা প্রদান করবে। যেসব মাঠে খেলা অনুষ্ঠিত হবে, সেসব মাঠ সেভাবেই প্রস্তুত করা হবে।

মাহদী আমিন জানান, সচিব আগামীকাল বিভাগীয় কমিশনারবৃন্দ ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে সভা করবেন। স্থানীয় মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সকল শিক্ষা বোর্ডে পরিদর্শন করবেন। তিনি প্রতিটি বিভাগীয় পর্যায়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যেখানে যার সংশ্লিষ্টতা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করা হবে।

এখানে আমাদের দুইজন সচিব রয়েছেন। আপনারা দেখছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রয়েছেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব রয়েছেন। তাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং যেখানে প্রয়োজন, সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন, ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে প্রাইমারি স্কুল গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে যে ফরম্যাট ছিল, এখানেও একই ফরম্যাট অনুসরণ করা হবে। আমরা যেহেতু বলছি, সারা বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই, তাই প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জেলা পর্যায়, তারপর বিভাগীয় পর্যায় এবং সবশেষে জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

আমাদের প্রথম যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে ইনশাআল্লাহ আমরা প্রত্যাশা করছি প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি, প্রাইমারি স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের মতো ফাইনালেও ইনশাআল্লাহ আমরা তাঁর উপস্থিতি আশা করছি। এই ফুটবল টুর্নামেন্টের বৈশিষ্ট্য হলো, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি এর পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। সে কারণেই প্রাইমারি স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের পাশাপাশি আমরা এটিকে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ বলছি। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি এই আয়োজনকে অনুপ্রাণিত করবেন। আজ আমরা সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যেখানে যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে, আমরা সমন্বিতভাবে তা নিশ্চিত করব, ইনশাআল্লাহ।

মিডিয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিশেষভাবে মিডিয়ার ভাই-বোনদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, যেহেতু সারা বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে, তাই ইতোপূর্বে আমরা যেভাবে দেখেছি, এ ধরনের প্রতিযোগিতায় যারা ভালো করে, তাদের যেন জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যথাযথ মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয় এবং তাদের অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়। তাদের ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষা পূরণে, ভালো করার এবং জাতীয় পর্যায়ে এসে সফল হওয়ার পথকে আরও সুগম করতে আপনারা তাদের যথাযথভাবে তুলে ধরবেন। যেখানে প্রয়োজন, তাদেরকে প্রচারণার আওতায় আনবেন।

তিনি আরও বলেন, ইনশাআল্লাহ, আমরা চাই সরকারের পক্ষ থেকে, নীতিমালার মাধ্যমে এবং প্রতিযোগিতাটি সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও শিক্ষার একটি ত্রিপাক্ষিক বিপ্লব সৃষ্টি করতে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখের মধ্যে শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। আমরা যখন চূড়ান্ত সূচি প্রস্তুত করব, তখন আপনাদের সঙ্গে পুরো বিষয়টি শেয়ার করব। তবে প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবরের মধ্যে আমরা প্রতিযোগিতাটি শেষ করতে চাই।

আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে।

মাহদী আমিন আরও বলেন, এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি আয়োজন। তাই সব মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে এখানে কাজ করছে। আপনারা প্রতিমন্ত্রী মহোদয়দের উপস্থিতি দেখছেন, মন্ত্রী মহোদয়ও ছিলেন। আমরা এটিকে জাতীয় গুরুত্বের একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছি।

ইনশাআল্লাহ, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আমরা বিশ্বাস করি, সৃজনশীল ক্রীড়া এবং মেধার বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা, যারা আগামী বাংলাদেশের কাণ্ডারি, তারা জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসবে।