রূপপুর প্রকল্পের অর্থ পরিশোধে ভারতীয় রুপিতে লেনদেনের প্রস্তাব রাশিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট অর্থ পরিশোধের জটিলতা কাটাতে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নিষ্পত্তিতে ভারতীয় রুপি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প-সংক্রান্ত ঋণের অর্থ পরিশোধ সহজ করতে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার কয়েকটি ব্যাংক পড়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের জন্য নেওয়া রুশ ঋণের কিস্তি পরিশোধে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার মুখে রয়েছে।

প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মাণাধীন ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট ব্যয়ের ৯০ শতাংশই রাশিয়ার সরকারি ঋণের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ, কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্বও রাশিয়ার ওপর রয়েছে।

অর্থ পরিশোধে বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে মস্কোর দেওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ-রাশিয়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় পেমেন্ট অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাবও দিয়েছে রাশিয়া। পাশাপাশি বাংলাদেশে রাশিয়ার একটি ব্যাংকের স্থানীয় শাখা খোলার পুরোনো প্রস্তাবও নতুন করে উত্থাপন করেছে মস্কো।

তবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প ছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় জাতীয় মুদ্রায় লেনদেনের জন্য পৃথক একটি পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বর্তমানে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্যের একটি অংশ ভারতীয় রুপিতে নিষ্পত্তি হয়। বাংলাদেশও ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডলার ছাড়াও ভারতীয় রুপিসহ বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রায় বাণিজ্যিক লেনদেন করে থাকে।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ রাশিয়ায় ২৪ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে।

সূত্র: রাশিয়াস পিভট টু এশিয়া