কলার উৎস হলো, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। গবেষকরা বলছেন কলা প্রথম পাওয়া যায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও নতুন গিনি অঞ্চলে। প্রায় ৭ হাজার বছর আগে কলার সঙ্গে মানুষ পরিচিত হয়। ১৪০০ সালে ইবনে বতুতার ভ্রমণবৃত্তান্তে কলার উল্লেখ রয়েছে। তিনি লিখেছেন, মালদ্বীপে কলা উৎপাদন ছিল অপ্রতুল। স্থানীয়রা এটি ব্যাপক চাষ করতেন। ইউরোপীয়রা কলার সঙ্গে পরিচিত হন ১৫০০ সালে। পর্তুগিজ নাবিকরা এ ফল আনেন, আফ্রিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে। তাদের ব্যবসায়িক সাহসিকতার ফলেই কলার জনপ্রিয়তা, বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়ে।
পৃথিবীতে এক হাজারেরও বেশি প্রজাতির কলা রয়েছে। তবে সেই সব কলার মধ্যে বেশিরভাগ বাঁকা। মহাকর্ষ বলের বিপরীত এবং সূর্যের আলোর দিকে বাড়ার প্রবণতাকে ‘নেগেটিভ জিওট্রপিজম’ বলে। কলা বাঁকা হওয়ার পেছনে প্রধানত এটি এবং অক্সিন হরমোনের প্রভাব কাজ করে। কলা যখন লম্বায় বড় হতে থাকে, তখন আবার অভিকর্ষ বল নিচের দিকে টানে। কিন্তু ভেতরের জৈবিক টানে সে ওপরের দিকে বারবার উঠতে চায়। এই দুই শক্তির জোরালো দ্বন্দ্বে, কলার আকৃতি সোজা না হয়ে বাঁকা হয়। কিন্তু যখন মোচা থেকে যখন ছোট কলা বের হয়, তখন সে মাটির দিকে মুখ করে থাকে। সোজা কলা পাওয়া যায় না, এ ধারণা ভুল। সংখ্যায় কম হলেও অনেক প্রজাতির কলা আছে, যেগুলো সূর্যের দিকে বাড়ে না। ওদের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নেগেটিভ জিওট্রপিজমের ভূমিকা নেই। তবে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ না করা ভালো।