বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারিমূলক বার্তা দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ধমকের সুরে দেওয়া একটি বিজ্ঞপ্তি মধ্যরাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। বিজ্ঞপ্তিটি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও শুরু হয়।
মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেইজে গিয়ে দেখা যায় অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী বিদ্যুৎ বিভাগের এই পদক্ষেপ নিয়ে হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করেছেন। কেউ লিখেছেন, ‘বিদ্যুৎ মানেই শক্তি।’ আবার কেউ বিভাগের নাম বদলে ‘অন্ধকার বিভাগ’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘এই প্রথম একটি বিবৃতি দেখে ভয় পেলাম।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘নেশা কেটে গেলে আবার পোস্ট করবেন।’ কেউ আবার বিদ্যুৎ সরবরাহকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেছেন, ‘বিদ্যুৎ যেন এক হোমিও ডাক্তার—তিন ঘণ্টা পরপর তিন ফোঁটা করে দেয়।’
জুন মাসের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ এবং এ-সংক্রান্ত সংবাদকে ‘অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ বিষয়েই প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।
রাত ১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিজ্ঞপ্তিটিতে ১ লাখ ৭ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এর মধ্যে ৯১ হাজার ব্যবহারকারী হাসির ইমোজি দিয়েছেন। এ ছাড়া ৩১ হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন এবং ১৬ হাজারবার বিজ্ঞপ্তিটি শেয়ার করা হয়েছে। মন্তব্যগুলোর অধিকাংশই ছিল সমালোচনামূলক। ব্যবহারকারীদের অনেকে বলেছেন, মানুষের সমস্যার সমাধান না করে উল্টো হুমকি দেওয়া অনুচিত।
সন্ধ্যায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে সাংবাদিকদের জন্য তৈরি করা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জানানো হয়, কিছুক্ষণের মধ্যেই বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে পাঠানো ওই বার্তার পর রাত ৭টা ২০ মিনিটে প্রথম বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।
প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতিরিক্ত বিল নিয়ে ‘মিথ্যা তথ্য’ বা ‘অপপ্রচার’ চালালে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ওই অংশ বাদ দিয়ে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে শুধু ‘দায়িত্বশীল আচরণ’ করার আহ্বান জানানো হয়। প্রথম বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয় সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে এবং সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় রাত ৮টা ২৩ মিনিটে।