আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পূর্বের মতো লটারি পদ্ধতি বহাল রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কোমলমতি শিশুদের ওপর থেকে অতিরিক্ত মানসিক ও প্রতিযোগিতামূলক চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা দিয়েই স্কুলে ভর্তি হতে হবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা হবে না। আগের মতোই লটারির মাধ্যমেই প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ দূর করতে ২০১১ সালে সরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে লটারিভিত্তিক ভর্তি প্রথা চালু করা হয়েছিল। চলতি বছরের ১৬ মার্চ শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এই লটারি পদ্ধতি বন্ধ হয়ে যাবে। ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণার পর থেকেই অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। সন্তানকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করতে অনেকেই কোচিং সেন্টার ও গৃহশিক্ষকদের দ্বারস্থ হন। এতে শিশু শিক্ষার্থীরা মারাত্মকভাবে মানসিক চাপের মধ্যে পড়ে। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় নাম মাত্র পরীক্ষা নেওয়া হবে জানিয়ে আসছিল।
আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি চালু হওয়ায় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। এই সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু বলেন, শিক্ষার্থী ভর্তিতে প্রথম শ্রেণিতে নয়, অন্তত প্রাথমিক স্তরের সব শ্রেণিতে লটারি চালু করতে হবে। তবেই ভর্তি কোচিং ব্যবসা অর্ধেক বন্ধ করা সম্ভব হবে। অসম প্রতিযোগিতা থেকে কোমলমতি শিশুরা রক্ষা পাবে।