ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ

বেরোবিতে বহিরাগত ও যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি, দর্শনার্থী এবং যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড.ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

‎বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে মঙ্গলবার থেকে ক্যাম্পাসে অতিথি ও দর্শনার্থী, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা, প্রাইভেটকারসহ সকল প্রকার যানবাহনের প্রবেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হলো।’

‎এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই অভ্যুত্থান কেন্দ্রীক একটি অনুষ্ঠানের ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবিরের মাঝে সংঘর্ষ হয়। এতে দুপক্ষেরই প্রচুর পরিমাণে বহিরাগত নিয়ে আসার অভিযোগ ওঠে এবং তা দৃশ্যমান হয়।

সোমবার রাতের সংঘর্ষে এই দুই ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীর মধ্যে প্রায় ৬ ঘণ্টা দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা যায়। 

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনার সূত্রপাত। পরে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। এক পর্যায়ে ক্যাম্পাস থেকে সরে যায় বেরোবি ছাত্রদল। এ সময় ক্যাম্পাস ও আশেপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা স্লোগান দিতে থাকে শিবির। তাদের হাতে ছিল লাঠিসোটা, পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র সদৃশ্য লোহার দ্রব্য। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে সহস্রাধিক গজ দূরে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র সদৃশ্য বস্তু হাতে অবস্থান করছিল।

এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দিনভর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনী চলছিল। প্রদর্শনীতে বিচারিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে জামায়াত নেতাদের ছবি ও ‘সাকা চৌধুরীর বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ লেখা ব্যানার সরিয়ে নিতে বলেন। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা বলেন, জুডিশিয়াল কিলিংয়ের যেসব ছবি আমরা লাগিয়েছি, ছাত্রদল সেগুলো সরিয়ে ফেলতে বলে। আমরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে বলেছি। কিন্তু তারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা না বলে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

শিবিরের নেতাকর্মীরা দাবি করেন, ছাত্রদলের হামলায় তাদের সাবেক সভাপতিসহ একাধিক আহত হয়। পরে আবার লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে হামলা হলে তারা তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন।

অন্যদিকে, ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. ইয়ামিন গণমাধ্যমকে বলেন, গোলাম আজম, কাদের মোল্লা ও নিজামীর মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি খালেদা জিয়ার ছবির পাশে টাঙানো হয়েছিল। আমরা সেগুলো অপসারণ করতে বলি। এরপর তারা চেয়ার নিক্ষেপ ও ধাক্কাধাক্কি করে। এতে আমাদের একজন আহত হন।

তিনি দাবি করেন, ছাত্রশিবির বহিরাগতদের নিয়ে এসে হামলা চালিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে আমরা আপস করব না। জুলাই নিয়েও কোনো আপস করব না।’

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জানান, দুইপক্ষের মধ্যে আলোচনায় প্রথমদিকে অনেকটা শান্তপূর্ণভাবেই হচ্ছিল। শেষের দিকে হয়তো কোনো তৃতীয়পক্ষ দুপক্ষকেই উস্কে দেয়।

প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান জানান, মারামারির ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিই। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।

উপাচার্য ড. শওকত আলী সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অনুষ্ঠানটি শিবিরের নামে তারা অনুমতি নেয়নি।

এ ঘটনায় উপাচার্য বলেন, জুলাই যেন আমরা ভুলে না যাই। আর কোনো শিক্ষার্থী যেন আহত না হয়। এ জন্য সব পক্ষকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। ছাত্ররাজনীতি এই ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন এখানে কর্মসূচি করতে আসে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আবেদন করা হলে সেই আবেদনের ভিত্তিতে কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া হয়।