ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ১১ বছর বয়সী এক স্কুল ছাত্রী কে যৌন নিপীড়নের দায়ে প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান মোল্লা (৫১) নামে এক ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত হাফিজুর রহমান মোল্লা বোয়ালমারী উপজেলার সূর্যগ্রাম মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত বাবুল মোল্লার ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ মে দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুটির মা ও বড় বোন এক অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। এ সময় বাড়িতে একা ছিল পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ওই শিশু।
গোসল শেষে নিজ কক্ষে কাপড় পরিবর্তনের সময় প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান মোল্লা ঘরে ঢুকে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধরে যৌন নিপীড়ন করে। শিশুটি চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত তার মুখ চেপে ধরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ৩০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। একপর্যায়ে শিশুটি তার হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে চিৎকার করলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।
পরে শিশুটির মা ও বড় বোন বাড়ি ফিরে তার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন। এরপর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন।
নারী ও শিশু ট্রাইবুনালের পিপি অ্যাডভোকেট আইনজীবী জানান, মামলার বিচার শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত হাফিজুর রহমান মোল্লাকে শিশু যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।