বুড়িগঙ্গা নদী থেকে রেজাউল করিম হৃদয় (৩৪) ও অজ্ঞাতনামা (৩৫) এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওয়াশপুর ঝাউচর খেয়াঘাট-সংলগ্ন এলাকা থেকে হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করে বসিলা নৌ পুলিশ।
পরে বিকেল ৪টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার কোন্ডা ইউনিয়নের কান্দাপাড়া খেয়াঘাটসংলগ্ন মাঝনদী থেকে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পাগলা নৌ পুলিশ।
বসিলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) ওমর আলী জানান, নিহত হৃদয় বসিলা উত্তর মোড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্টেট ফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের একজন ডেলিভারিম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রথমে অজ্ঞাত হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করা হলেও, তাঁর পকেটে থাকা মোবাইল ফোনের সিমকার্ডের সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারকারী বসিলা নৌ পুলিশের এএসআই আজহার আলী জানান, নিহতের ছোট ভাই আকাশের ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদয় দুই দিন আগে কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। পরে মর্গে গিয়ে তারা মরদেহটি হৃদয়ের বলে শনাক্ত করেন।
অন্যদিকে, পাগলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ (আইসি) মো. মালেক বিশ্বাস জানান, মাঝনদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, নিহতের ডান পা বিচ্ছিন্ন, বাম পা ও ডান হাত ভাঙা ছিল। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। উদ্ধারের সময় নিহতের শরীরে কোনো পোশাক ছিল না।
উদ্ধার করা দুটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পাগলা ও বসিলা নৌ পুলিশ বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে।