বর্তমানে যারা ছাত্রদের জুলাই আন্দোলনের সুবিধাভোগী তাদের ঠিকানা থাকত কারাগারে। যারা ধানখেতে-পাটখেতে থাকতেন, তারাও কিন্তু ঐ ধানখেতে-পাটখেতেই থাকতেন। আর যারা শিলং থেকে এসে এখানে মর্যাদা পেয়েছেন, লন্ডন থেকে এসে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তাদেরকেও আজীবনের জন্য লন্ডনেই থাকতে হতো। আপনাদের সেই অতীত ভুলে যাবেন না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) কর্তৃক আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘জাগ্রত জুলাই কালচারাল ফেস্ট-২০২৬’-এর আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন সাবেক চাকসু ভিপি এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) চবি শহীদ আবদুর রব হল মাঠে চাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত কালচারাল ফেস্ট-এর আয়োজন করা হয়।
সাবেক চাকসু ভিপি জসিম উদ্দিন বলেন, “জুলাই আন্দোলনে ছাত্ররা জীবন দিয়েছিল বলেই আল্লাহ তায়ালার অসীম কুদরতে দীর্ঘদিনের একটা কঠিন ফ্যাসিস্টকে বিদায় করা সম্ভব হয়েছে। তৎকালীন ফ্যাসিবাদের বিস্তার শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে বিচারালয়, বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সর্বত্র ছিল। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী ১৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছে। কিন্তু, অসংখ্য বেওয়ারিশ লাশকে গণকবরে দাফন করা হয়েছে। অসংখ্য ছাত্রকেএই হায়েনার বাহিনী আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। শহীদদের অঙ্গীকার ছিল বৈষম্যবিরোধী সমাজ গড়া, দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করা ও ফ্যাসিস্টমুক্ত করা।”
তিনি আরও বলেন, জুলাই শহীদদের এক নম্বর দাবি হচ্ছে বিচার। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দোষীদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে প্রায় ৬০০-র মতো অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার থেকে মাত্র ৩০টা বিচার প্রক্রিয়াধীন, পাঁচ-সাতটার রায় হয়েছে। এই শ্লথগতিতে বিচার হলে বিচার শেষ হবে না! অবিলম্বে বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে তার রায় কার্যকরীর ব্যবস্থা করতে হবে।”
তিনি বলেন, “যে পালিয়ে গেছেন প্রধান ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা, লম্ফঝম্ফ করছেন পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র থেকে—তিনি সামনে নাকি আসবেন! এটা কোন ষড়যন্ত্রের অংশ আমরা জানি না। বাংলাদেশের মানুষ আপনাকে বারাবাত (বরাদ্দকৃত খাবার) খাইতে দেয় নাই! আপনি রান্না করেছিলেন কিন্তু খেতে পারেননি, চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সুতরাং, আর কোনো ফ্যাসিজমকে বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না, ইনশাআল্লাহ।”
১৯৮১ সালে অনুষ্ঠিত চাকসুর পঞ্চম নির্বাচনে ভিপি ও জিএস পদে নির্বাচিত হন ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৎকালীন নেতা জসিম উদ্দিন সরকার ও আবদুল গাফফার। সাবেক চাকসু ভিপি জসিম উদ্দিন সরকার বর্তমানে এডভোকেট হিসেবে কর্মরত আছেন।