ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় দুই তরুণীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় ৬ যুবককে আমৃত্যু কারাদন্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান আমৃত্যু কারাদ-ের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদন্ড দেন। দন্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদন্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী বা তার পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দেয় আদালত।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন মো. ডায়মন্ড, আফসার উদ্দিন অনিম, পারভেজ হক পলাশ, মিনহাজ ওরফে মিনহাজ আবেদীন, মিনহাজ ওরফে বাবু ওরফে মিনহাজ বাবু ও রাহুল। আসামিদের মধ্যে রাহুল পলাতক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অপর আসামিদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৫ জুন ওই দুই তরুণীসহ তাদের কয়েকজন বন্ধু তাদের এক বন্ধুর জন্মদিন উদযাপন করতে ঘুরতে বের হন। রাত পৌনে ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের পানকৌড়ি রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া শেষে বাসায় ফেরার জন্য শুভাঢ্যা এলাকায় অটোরিকশা খুঁজছিলেন তারা। সেখানে আসামিরা (যারা দন্ডিত হলেন) তাদের পথরোধ করে মারতে মারতে স্থানীয় একটি খামারে নিয়ে যায়। দুই বান্ধবীর বন্ধুদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মারধর করে তাদের টাকা-পয়সা, মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে দুই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক তরুণীর বাবা ওই বছরের ২৯ জুন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল মামলার তদন্ত কমকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই শরজিৎ কুমার ঘোষ ৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে এ দন্ড দেন।