খাদ্য উৎপাদকদের ৫৪ শতাংশই ক্ষুদ্র কৃষক

বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদকদের ৫৩ দশমিক ৬৫ শতাংশই ক্ষুদ্র কৃষক। তবে দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় অবদান রাখলেও বড় কৃষকদের তুলনায় তাদের আয় ও উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘ইনকাম অ্যান্ড প্রোডাক্টিভিটি অব স্মল-স্কেল ফুড প্রোডিউসার্স সার্ভে ২০২৫’ জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপটি দেশের আটটি বিভাগের ফসল, স্থায়ী ফসল, বনায়ন, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য চাষসহ পাঁচটি কৃষি খাতের ১২ হাজার ৮৭৯টি খানার ওপর পরিচালিত হয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে খাদ্য উৎপাদনে শ্রম-দিবসপ্রতি গড় আয় ১ হাজার ৮৬৮ টাকা। তবে ক্ষুদ্র কৃষকদের ক্ষেত্রে তা মাত্র ১ হাজার ৪৯৪ টাকা, যেখানে বড় কৃষকদের শ্রম-দিবসপ্রতি আয় ২ হাজার ৩০১ টাকা। খাতভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি উৎপাদনশীলতা মৎস্য চাষে। এ খাতে শ্রম-দিবসপ্রতি আয় ১১ হাজার ৩৮২ টাকা। এরপর রয়েছে স্থায়ী বা বহুবর্ষজীবী (একবার রোপণের পর একাধিক বছর ফলন দেয়) ফসলে ৬ হাজার ৫৩০ টাকা এবং বনায়নে ৫ হাজার ৩৯০ টাকা। বিপরীতে প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদনশীলতা সবচেয়ে কম, যেখানে শ্রম-দিবসপ্রতি আয় ১ হাজার ৪৫৯ টাকা।

বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র কৃষকের হার সবচেয়ে বেশি, ৫৯ দশমিক ৮১ শতাংশ। এরপর রয়েছে রংপুর, যেখানে এ হার ৫৯ দশমিক ২৯ শতাংশ। অন্যদিকে সিলেটই একমাত্র বিভাগ, যেখানে বড় খাদ্য উৎপাদকরা সংখ্যাগরিষ্ঠ; সেখানে ক্ষুদ্র কৃষকের হার ৩৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

তবে কিছু খাতে ক্ষুদ্র কৃষকরা বড় উৎপাদকদেরও ছাড়িয়ে গেছেন। স্থায়ী বা বহুবর্ষজীবী ফসলের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র কৃষকদের শ্রম-দিবসপ্রতি আয় ৯ হাজার ১৮২ টাকা, যেখানে বড় কৃষকদের আয় ৪ হাজার ৬০৩ টাকা। একইভাবে বনায়ন খাতে ক্ষুদ্র কৃষকদের শ্রম-দিবসপ্রতি আয় ৬ হাজার ৫১৮ টাকা, যা বড় কৃষকদের ৪ হাজার ৬৫৬ টাকার তুলনায় বেশি।

আঞ্চলিকভাবে ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদনশীলতা রাজশাহী বিভাগে, যেখানে শ্রম-দিবসপ্রতি আয় ২ হাজার ৯৩ টাকা। সবচেয়ে কম উৎপাদনশীলতা ময়মনসিংহ বিভাগে, ১ হাজার ১৩৫ টাকা।

বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের বৈষম্য দেখা গেছে। দেশের সব খাদ্য উৎপাদকের গড় বার্ষিক আয় ৭৮ হাজার ২৮৬ টাকা। অথচ ক্ষুদ্র কৃষকদের গড় বার্ষিক আয় মাত্র ৩৩ হাজার ৬৩৯ টাকা। বিপরীতে বড় উৎপাদকদের গড় বার্ষিক আয় ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৫৬ টাকা, যা ক্ষুদ্র কৃষকদের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।