কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৬ বছরের অধিক বয়সের কোনো নারীর সঙ্গে যৌনকর্মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই ব্যক্তি অনধিক সাত বছর সশ্রম কারাদ-ে দ-নীয় হবেন, আইনের এমন বিধান সংযোজন সাংঘর্ষিক বলে কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি সম্পূরক আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়।
বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কসংক্রান্ত বিষয়ে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ৭ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট আবেদন হয়। মানবাধিকার সংগঠন ‘এইড ফর ম্যান ফাউন্ডেশনের’ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নাদিম এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. রাশিদুল হাসান এ রিট মামলাটি করেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান।
শুনানি নিয়ে ৪ মে বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্মের দ-সংক্রান্ত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর ৫ নম্বর কলামের ‘৯খ-এর ‘বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্ম করিবার দ-’ ধারা বাতিলে রুল দেয় হাইকোর্ট। এ রুল বিবেচনাধীন থাকাবস্থায় অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হয়।
অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিয়ের প্রলোভনে যৌনকর্ম মানে দুজনের সম্মতিতে হয়েছে। আর বিয়ের প্রতিশ্রুতি নারী ও পুরুষ যে কেউ রাখতেও পারে, নাও পারে। কিন্তু আইনে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান করা হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনে রুল দিয়েছে।’