ফিলিপাইনের দক্ষিণ উপকূলে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্প

ফিলিপাইনের দক্ষিণ উপকূলের কাছে বুধবার (৫ আগস্ট) ৬ দশমিক ৩ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে সারাঙ্গানি দ্বীপের প্রায় ৩২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ৬২ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র।

সারাঙ্গানি দ্বীপের উদ্ধারকর্মী হার্লি সাউরো বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভূমিকম্পের সময় সরকারি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অনুদান বিতরণ চলছিল। এ কারণে স্থানীয় কোর্ট প্রাঙ্গণে অনেক মানুষের সমাগম হয়েছিল।

তিনি বলেন, 'কম্পন বেশ শক্তিশালী ছিল। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াতে শুরু করে, অনেককে চিৎকার করতেও দেখা যায়।'

তবে তিনি জানান, সবাই নিরাপদে সরে যেতে পেরেছেন এবং প্রাথমিক মূল্যায়নে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না।

এর আগে গত ৮ জুন ফিলিপাইনের কাছাকাছি মিন্দানাও দ্বীপে শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়ে, ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং অন্তত ৭৬ জন নিহত হন। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই ভূমিকম্পটি কোটাবাতো ট্রেঞ্চে টেকটোনিক প্লেটের সঞ্চালনের কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। এতে সমুদ্রের তলদেশ প্রায় দুই মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে যায়, ফলে প্রবালপ্রাচীর উন্মুক্ত হয়ে পড়ে এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যেরও ক্ষতি হয়।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইনে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত এই ভূমিকম্পপ্রবণ বলয়ে নিয়মিত টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে দেশটিতে প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়।