জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব না: রোকেয়া বেগম 

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জুলাই আন্দোলনে শিশু শহীদ জাবের ইব্রাহিমের মা এবং জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রোকেয়া বেগম। তিনি বলেন, আমাদের ছেলেরা জীবন দিয়েছে সুন্দর একটি বাংলাদেশ বিনির্মানের জন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব না।

আজ বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানী উত্তরার মুগ্ধ মঞ্চে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

উত্তরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন কমিটির আয়োজনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ ও অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কমিটির সদস্য সচিব কামরুল হাসান। 

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শেখ ফাহমিন জাফরের মা কাজী লুলুন মাখমিন, শহীদ জাবির ইব্রাহিমের পিতা কবির হোসেন, শহীদ আব্দুন নূরের বাবা মাওলানা আবুল বাশার, শহীদ আসাদুল্লাহর স্ত্রী ফারজানা আক্তার,  শহীদ জাহিদুজ্জামান তানভিনের মা বিলকিস জামান, শহীদ নাইমা সুলতানার মা আইনুন নাহার,শহীদ রিদয়ান শরীফ রিয়াদ জয়ের মা রুপালি আক্তার, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি  ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, উত্তরা ইউনাইটেড ক্লাবের চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ। 

সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম বলেন, আমি শহীদ জাবের ইব্রাহিমের মা। প্রায় ১৪০০ শহীদের স্বরণে আমি এখানে এসেছি। জুলাই আমাদের জীবনকে বদলে দিয়েছে। আমরা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারি না।  রাজপথে নেমেছিলাম একটা পরিবর্তনের জন্য। সে পরিবর্তন অধরাই থেকে গেল। 

তিনি বলেন,  আমি সবার কাছে জুলাই শহীদ এবং বীরদের জন্য দোয়া চাচ্ছি। আমাদের শহীদরা যেন জান্নাতের শ্রেষ্ঠ জায়গায় থাকে। আপনারা আজকে এখানে আপনাদের বাচ্চাদেরকে নিয়ে এসেছেন বীরদেকে স্মরণ করবার জন্য। আমি আশা করব আপনারা আমাদের ইসলামের যে শহীদরা আছেন, ৭১ যে শহীদরা আছেন, পিলখানার শহীদ, শাপলা চত্বরের শহীদ এবং সাথে সাথে ২৪ এর শহীদদের স্বরণ করবেন। তাদেরকে শ্রদ্ধা জানবেন এবং তাদের জন্য দোয়া করবেন। বীরদের জন্যই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি।

দিনব্যাপী জুলাই চিত্র প্রদর্শনী, শহীদ পরিবার ও আহতদের জুলাইয়ের স্মৃতিগাথা, আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণী, বিদ্রোহের উত্তরা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।  কাশিদার কাওয়ালী সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হবে। উত্তরার সহস্রাধিক ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক অংশগ্রহণ করে।