১০০ বলের ক্রিকেটে রেকর্ড ২৪১ রান

ইংল্যান্ডের শত বলের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর ইতিহাসে রচিত হলো নতুন এক অধ্যায়। হেডিংলি স্টেডিয়ামে যেন রানবন্যা বইয়ে দিল সানরাইজার্স লিডস। মিচেল মার্শ, রায়ান রিকেলটন ও হ্যারি ব্রুকদের তাণ্ডবে গড়েছে দলীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ, সর্বোচ্চ জুটি এবং সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডের মতো একগাদা নতুন কীর্তি।

টুর্নামেন্টের রেকর্ড ২৪১ রান তুলে ম্যাচে লন্ডন স্পিরিটকে ৩৭ রানে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও পোক্ত করল সানরাইজার্স।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন সানরাইজার্সের দুই ওপেনার মার্শ ও রিকেলটন। মাত্র ৬৫ বলেই তারা গড়ে ফেলেন ১৪৮ রানের দারুণ এক উদ্বোধনী জুটি, যা ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির নতুন বিশ্বরেকর্ড। ইনিংসের ৫০ বল শেষে দলের স্কোর দাঁড়ায় ১১৯ রান, এটিও টুর্নামেন্টের ইতিহাসে ইনিংসের অর্ধেক পথে সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ড।

অস্ট্রেলিয়ান তারকা মার্শ ৭টি ছক্কায় ৩৭ বলে ৭৬ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলে আউট হন। চলতি টুর্নামেন্টে ২৯০ রান করে তিনিই এখন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং ২৩টি ছক্কা হাঁকিয়ে সর্বোচ্চ ছক্কার মালিক।

মার্শ বিদায় নিলেও রানের গতি কমেনি। এরপর ক্রিজে নেমে মাত্র ১৫ বলে ফিফটি হাঁকিয়ে দ্য হান্ড্রেডে যৌথভাবে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড স্পর্শ করেন ব্রুক। তিনি শেষ পর্যন্ত ১৮ বলে ৫৫ রানের অপরাজিত ঝড়ো ইনিংস খেলেন। আর দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার রিকেলটন ৮টি ছক্কায় ৪২ বলে ৯৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। সব মিলিয়ে নির্ধারিত ১০০ বলে সানরাইজার্সের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ২৪১ রান, যা এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড। এর আগের রেকর্ডটি ছিল ওভাল ইনভিন্সিবলসের ২২৬ রান। পুরো ইনিংসে ব্যাটারদের ব্যাট থেকে আসে রেকর্ড ২১টি ছক্কা।

জবাবে পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় লন্ডন স্পিরিট। রিস টপলির বোলিং তোপে দলীয় ৫৬ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে তারা। এরপর ডেভিড উইলি ও জেমি ওভারটনের প্রতিরোধ কেবল পরাজয়ের ব্যবধানেই প্রলেপ দেয়। উইলি ৪৬ বলে অপরাজিত ৮৩ রান করলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ১০০ বলে ৬ উইকেটে ২০৪ রান তুলতে সমর্থ হয় লন্ডন স্পিরিট।

এদিকে ম্যাচটি কেবল জয়ের জন্যই নয়, বরং দুই দলের যৌথ সংগ্রহ ৪৪৫ রান এবং ম্যাচে মোট ৩১টি ছক্কার সুবাদে দ্য হান্ড্রেডের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান ও ছক্কার ম্যাচ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে রইল।